প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব স্পষ্ট করা এবং আইন বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলোতে বক্তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর উদ্যোগে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন: বর্তমান প্রেক্ষিত ও সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ।
বৈঠকের শুরুতে কানাডা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, “সড়কে নিরাপত্তা সংহত করতে নিসচার স্বপ্নদ্রষ্টা ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই আইন। আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। আশা করি, আজকের গোলটেবিল বৈঠকের সারসংক্ষেপ ও অংশীজনদের মতামতের আলোকে ২০২৭ সালের মধ্যেই সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়িত হবে।”
এরপর লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকলেও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের প্রতি তাঁর মন পড়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রিয় দেশ থেকে দূরে থাকলেও আমার মন পড়ে আছে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের কাছে। আমার অসুস্থতার সময়ে যাঁরা খোঁজ নিয়েছেন এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।”
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ইতিহাসকে স্মরণে রেখে তিনি আরও বলেন, “নিসচার ইতিহাস কোনো ব্যক্তির একার নয়, এটি সড়কে স্বজন হারানো মানুষ ও দেশবাসীর সম্মিলিত ইতিহাস। তাই নিসচাকে তার ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করা বা এর অবদান আড়াল করার যেকোনো প্রচেষ্টা আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। যারা ইতিহাস নিয়ে কথা বলবেন, তাঁরা যেন তথ্য, নথি ও সত্যের ভিত্তিতে কথা বলেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৩৩ বছর ধরে নিসচা জনসচেতনতা তৈরি ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দাবি জানিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্লোগান ধারণ করে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়িত হয়। বর্তমানে প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করে নিসচা।
গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবীবুর রহমান, বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, বিএফইউজে-এর মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বুয়েটের অধ্যাপক ও সড়ক বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আইয়ুব ভুঁইয়া, হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশন্স) মুনতাসিরুল ইসলাম পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি, ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, সাবেক সচিব ড. শরীফুল আলম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব খালেদ মাহমুদ, সড়ক বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান, আইইউবি-এর ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরান উল বাসেত এবং বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) মো. জিয়াউর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সড়ক দুর্ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; বরং এটি পরিবহন ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, আইন প্রয়োগ, চালকের প্রশিক্ষণ, যাত্রীসচেতনতা এবং সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ও জবাবদিহির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। দুর্ঘটনা কমাতে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের পরিবর্তে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
বৈঠকে দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
শক্তিশালী ডেটা সেল গঠন: দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, কারণ, হতাহতের সংখ্যা, যানবাহনের ধরন ও আইন লঙ্ঘনের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি কার্যকর ‘রোড সেফটি ডেটা সেল’ গড়ে তোলা।
প্রশাসনিক সমন্বয়: বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সড়কপথ, নৌপথ, রেলপথ ও বিমানপথ একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে সমন্বিত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা।
নিরাপদ ব্যবস্থা পদ্ধতি (Safe System): জাতিসংঘের ঘোষিত নিরাপদ ব্যবস্থা পদ্ধতি অনুসরণ করে গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকের প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ, যানবাহনের নিরাপত্তা এবং পথচারী সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
আইনের বাস্তবায়ন ও তদারকি: সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করে প্রস্তাবিত আইনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, নিয়মিত তদারকি এবং অগ্রগতি প্রকাশের ব্যবস্থা রাখা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নিসচার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবং প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনা ও অংশীজনদের মতামত বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে নিসচা সবসময় সমন্বিতভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন