ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খালেদা জিয়া শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে: বিমানমন্ত্রী


খালেদা জিয়া শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে: বিমানমন্ত্রী

জিয়াউর রহমান আমাদের কীভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয় তা শিখিয়েছেন। এছাড়াও, আমাদের দেশে নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, এই কথাটি বলেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খান রিতা।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে, মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা চলবে না এবং সততার সঙ্গে চলতে হবে। এই শিক্ষা আমরা বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে শিখেছি।

আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের কী শিখাচ্ছেন? তিনি আমাদের সামাজিক ও মানবিক দেশ গঠন, কাজ করা, এবং জনবান্ধব সরকার গঠনে শিক্ষা দিচ্ছেন। যদি আমরা এই তিনটি শিক্ষা জীবনের পথে অনুসরণ করতে পারি, তবে আমাদের যে লক্ষ্য রয়েছে, সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, দেশে যদি সঠিকভাবে কার্যক্রম না চলে, তবে আমি আমার জীবন গঠন করতে পারবো না। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশের জন্য দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।

মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার যে গুরুত্ব রয়েছে তা তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে শহীদ জিয়া, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই স্মৃতি কার্নারের উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ড. মুহম্মদ মাহফিল খান, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুর রহমান সজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিব খান অয়নসহ আরও অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমিরাতে বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


আমিরাতে বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত।

রবিবারের সাক্ষাতে তারা বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সম্মুখীন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেইসঙ্গে তিনি এসব সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যা নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও বৈধ স্বার্থ সংরক্ষণের ওপর ভিত্তি করে।

তিনি পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ২০২৬ সালের মধ্যে ঢাকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ–সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ কনস্যুলার কমিটির সভা আয়োজনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ সভায় কনস্যুলার ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং এ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার সম্ভাবনার ওপর তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

বৈঠকের সময়ে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব পর্যালোচনা করা হয়। উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তারা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলবে।

এছাড়া, উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–সংযুক্ত আরব আমিরাত জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল সক্রিয় করার বিষয়ে একমত হন এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এর সভা আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ইউএই রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশনে ওয়াদি উরাইয়াহ ন্যাশনাল পার্ককে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের মূল্যবান সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

উভয় পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ ও জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ইউক্রেনের হামলা ঘিরে নতুন উত্তেজনা

হরমুজ ও লোহিত সাগরের পর ইরানের যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট কি কাস্পিয়ান সাগর?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


হরমুজ ও লোহিত সাগরের পর ইরানের যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট কি কাস্পিয়ান সাগর?

হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পর এবার কি কাস্পিয়ান সাগর নতুন সংঘাতের মঞ্চ হতে যাচ্ছে—এমন প্রশ্ন উঠেছে ইউক্রেনের হামলায় একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায়।

হামলায় ইরান জানিয়েছে, একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এর জেরে ইউক্রেনের কূটনীতিকদের তলব করে কিয়েভের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছে তেহরান। খবরটি এসেছে আল-জাজিরার মাধ্যমে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, শনিবারের ওই হামলার পর তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। ইরানের দাবি, এ হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন হয়েছে এবং এটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তেহরান আবারও দাবি করেছে, তারা সরাসরি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেয়নি।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেছেন, ইউরোপীয় দূরপাল্লার হামলায় ইরানের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ এবং একটি রুশ যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজটির নাম উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়া উপসাগরীয় অঞ্চল ও সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে, যা পরবর্তী হামলার প্রস্তুতি ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির ওপর রুশ নজরদারির তথ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন টানা ১৩ রাতের মার্কিন হামলার পর আপাতত সংঘাত কিছুটা থেমে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি।

দক্ষিণে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথিদের হামলার কারণে ইতোমধ্যেই ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য চাপের মুখে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কাস্পিয়ান সাগরেও যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ একেবারেই সংকুচিত হতে পারে। ২০২২ সালে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহের পর তেহরান ও কিয়েভের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ইরানি নকশার এসব ড্রোন ব্যবহার করে দেশজুড়ে হাজারো হামলা চালিয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৪৪ হাজারের বেশি ইরানি নকশার ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তাও দিচ্ছে কিয়েভ।

তবে, হামলার জবাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না সে বিষয়ে। ইরান এখনও কোনো ঘোষণা দেয়নি। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইউক্রেন ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার পাল্লার মধ্যে রয়েছে।

তবে, কাতার, মিসর, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে উভয় পক্ষের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানে চলমান বিমান হামলার পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে তিনি নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগকে সময় দিতে সেটি অনুমোদন দেননি।

উল্লেখ‍্য যে, কাস্পিয়ান সাগরে হামলার মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। কারণ, এই সামুদ্রিক পথও ঝুঁকির মুখে পড়লে, তেহরানের জ্বালানি রপ্তানি ও সামরিক সরবরাহে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা মাইকেল মুলরয়ের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকায় ওয়াশিংটনের কৌশলগত বিকল্পও ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। তার ভাষ্য, আলোচনায় কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং ইরানও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন বার্তা দিলেন ‘তেলাপোকা পার্টি’র প্রধান অভিজিৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


নতুন বার্তা দিলেন ‘তেলাপোকা পার্টি’র প্রধান অভিজিৎ

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা জনিত কারণে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে মোদি সরকারের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল দেশটির তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় তরুণদের নতুন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন প্লাটফর্মটির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। তার নেতৃত্বে হওয়া টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের মুখে বিজেপি সরকার এক প্রকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে— পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান; মেনে নেওয়া হয়েছে আন্দোলকারীদের বাকি সব দাবি-দাওয়াও।

সফল এই আন্দোলনের পর এবার নতুন এক বার্তা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে। রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘এটি কেবল শুরু, পথ এখনও অনেক বাকি।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকার সিজেপির অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ায় এখন কিছুটা বিশ্রামের সময় এসেছে ককরোচ পার্টি প্রধানের। ৩০ বছর বয়সী এই মুখ আন্দোলনের দেশব্যাপী গড়ে ওঠা মুহূর্তগুলোকে পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করছেন।

তেলাপোকা পার্টি প্রধান বলেছেন, ‘কী করতে হবে কিংবা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে—এসব চিন্তা না করেই আমি ঘুমাতে যেতে পারছি এবং নিজের শোবার ঘরে ঘুম থেকে উঠতে পারছি।’

রোববার সকালে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ বলেছেন, এখন আর কোনও উৎকণ্ঠা নেই। আন্দোলনের ৩৭ দিনকে তিনি ‘সত্যিই অত্যন্ত কঠিন’ বলে অভিহিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি রয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণদেরকে ‘তেলাপোকা’ নাম দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করার পর জবাব হিসেবে গত মে মাসে সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ। পরবর্তী প্রায় ৭০ দিনের মধ্যে তা দেশটির জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের শক্তিকে এক সুতোয় গাঁথা বিশাল আন্দোলনে রূপ নেয়।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার ‘তেলাপোকা’—যারা নিজেদের সিজেপির সমর্থক বলে পরিচয় দেন; রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র দখল করে নেন। ভারতের ক্ষমতার প্রাণকেন্দ্রের একেবারে কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরে ককরোচদের ‘ইনকিলাব’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চাকরিপ্রার্থীদের আত্মহত্যার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করেন শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের মাধ্যমে তার পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তারা। সরকারের গড়িমসিতে প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার সমর্থক যোগ দেন ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনে।

আন্দোলনের ৩৭ দিনের মাথায় শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেইসঙ্গে সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।

তবে, এই পথ সহজ ছিল না বলে ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ স্মরণ করেছেন। অনেকে নানা সন্দেহ প্রকাশ করলেও যারা সিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তাদের সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। টাইফয়েডে আক্রান্ত ও গায়ে জ্বর থাকার কারণে গতকাল যন্তর মন্তরে সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে না পারার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ভারতের এই তরুণ আন্দোলনকর্মী।

ভিডিওতে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অপেক্ষা করছিলেন, আমি আপনাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর আমি আপনাদের বলতে চাই, আপনারা এই দেশের জন্য যা করেছেন, তা আমি সত্যিই মন থেকে অনেক সম্মান করি।

যারা সমালোচনা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। অভিজিৎ দিপকে জানান, তাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রশ্নের মাধ্যমেই তিনি নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে পেরেছেন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টোকিওতে ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ, প্রধানমন্ত্রীর ঘুমের সময় মাত্র ৩ ঘণ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


টোকিওতে ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ, প্রধানমন্ত্রীর ঘুমের সময় মাত্র ৩ ঘণ্টা

সরকারি কর্মচারীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করার পর যখন কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে, তখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানয়ে তাকাইচির ঘুম এবং কাজের অভ্যাস নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি জানিয়েছেন যে রাতের বেলায় সাধারণত শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমান। দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতি পরিবর্তনের প্রচেষ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনীতিক ও সাধারণ জনগণ।

২০২৫ সালের অক্টোবরে, তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সম্প্রতি তিনি ‘সি ডে’ নামে একটি সরকারি ছুটির দিনে নিজের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করেছেন। তিনি জানান, বহুদিন পর ওই দিনে টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঘুমানোর তার অভ্যাস শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা হয়ে গেছে।

ফরচুনের প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে যে, তাকাইচির পোস্টটি তিন কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তার কাজ চলে। সাম্প্রতিক কয়েকটি সপ্তাহান্তে সরকারি বাসভবনে আইন ও নীতিসংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক নথি পড়ার কাজ করেছেন।

ছুটির দিনের দিকে কিছুটা বেশি ঘুমানো ছাড়াও তাকাইচি জমে থাকা ঘরের কাজও করেন। তিনি কাপড় ইস্ত্রি করা এবং পোশাকের ছেঁড়া অংশ সেলাই করার কথাও পোস্টে উল্লেখ করেছেন। পোস্টটি শেষ করে তিনি জানান, পরদিন থেকে আবার উদ্যমের সহিত কাজে ফিরবেন।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা এবং ব্যাপক অল্প ঘুমানোর বিষয়টি তাকাইচির জন্য নতুন নয়। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দলের সহকর্মীদের উদ্দেশে একটি বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, নিজের ক্ষেত্র থেকে ‘কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য’ শব্দটি বাদ দিতে চান। একই বক্তব্যে একাধিকবার ‘কাজ’ শব্দের ব্যবহার করে নতুন সরকারকে কঠোর পরিশ্রমের জন্য আহ্বান জানান।

দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যে ভোর তিনটায় কর্মকর্তাদের বৈঠকে ডাকার ঘটনার জন্য তাকাইচি সমালোচিত হয়েছিলেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বাসার ফ্যাক্সযন্ত্র নষ্ট থাকার কারণে তাকে কর্মকর্তাদের সহায়তা নিতে হয়েছিল। সকালবেলার এক বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য তাড়াতাড়ি বৈঠকে ডাকার প্রয়োজন ছিল।

তাকাইচির সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা তোরু কুনিশিগে সতর্কতার সঙ্গে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি মানুষের বিচারবুদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সরকারের মাথায় দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের অভাব দেশের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তার মত। আরেক রাজনীতিক মন্তব্য করে বলেন, যথাযথ বিশ্রাম নেওয়া একজন নেতার কর্তব্যের অংশ।

তাকাইচির কাজের রুটিন নিয়ে বিতর্কটি জাপানের সামাজিক বাস্তবতার কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং চাকরিজনিত মানসিক চাপ জাপানে বহু বছর ধরে গুরুতর সমস্যা এবং অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুকে ‘কারোশি’ বলে অভিহিত করা হয়। কর্মক্ষেত্রের চাপ কমাতে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নমনীয় কর্মঘণ্টা, বাধ্যতামূলক ছুটি এবং দূরে থেকে কাজ করার মতো ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করছে।

এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে টোকিও প্রশাসন ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে যোগ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহে চার দিনের কাজের সুযোগ চালু করেছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হল কর্মীদের পারিবারিক দায়িত্ব পালনের যাতে সুযোগ আরও বৃদ্ধি পায়, সন্তান লালন-পালনে সহায়তা করা এবং বিশেষ করে নারীদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমানো। টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে বলেছেন যে, নারী ও পুরুষ উভয়েই যাতে নিজেদের কিছু অবস্থার ভিত্তিতে কাজের ধরন বেছে নিতে পারে, সে জন্য নমনীয় কর্মব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

জাপানের নিম্ন জন্মহারও চার দিনের কর্ম সপ্তাহ নিয়ে আলোচনার একটি প্রধান কারণ। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সন্তান পালনের ব্যয় এবং পরিবারকে যথাযথ সময় দিতে না পারা, এসব বিষয় দেশের জনসংখ্যা সংকটের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। সুতরাং টোকিওর উদ্যোগটি শুধুমাত্র কর্মীদের সুবিধা প্রদানের বিষয় নয়, বরং পারিবারিকভাবে বন্ধনযুক্ত সমাজ গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ।

২০১৯ সালে মাইক্রোসফট জাপান পরীক্ষামূলকভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করে এবং প্রতিষ্ঠানটি বলছে যে পরীক্ষার সময় কর্মীদের উৎপাদনশীলতা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও কাগজের ব্যবহার কমেছে এবং কর্মীদের সন্তুষ্টিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সব শিল্প ও পেশায় একই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারা নামক ঘটনা নিয়ে এখনো বিতর্ক আছে।

তাকাইচির কথাগুলি এমন এক সময়ে এসেছে যখন বিশ্বের নানা দেশে তরুণ কর্মীরা চাকরি নির্বাচন করতে গিয়ে বেতন ও পদমর্যাদার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্যও পর্যাপ্ত সময়কে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই একজন সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত কাজকে গৌরব হিসেবে উপস্থাপন করা নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্কৃতির প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন সমালোচকেরা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সানায়ে তাকাইচির ঘুমের সময়সূচি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে তার বক্তব্য দেশটিতে দু’টি দীর্ঘ প্রশ্ন তুলে ধরেছে—দীর্ঘ সময় কাজ করা কি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয়, নাকি উপযুক্ত বিশ্রাম নিয়ে সুস্থতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা একজন সরকারপ্রধানের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

টোকিওর চার দিনের কর্মসপ্তাহ কর্মীদের কম সময় কাজ করে আরও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনয়ের সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, দেশের সরকারপ্রধানের শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস জাপানের পরিবর্তনশীল কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%