প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা জুলাই হয়েই বাঁচব চিরদিন। প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামব বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
বুধবার (০৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আসিফ নজরুল লেখেন, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নানা বিতর্ক রয়েছে। তবু একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই- এই দলটি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছিল এবং সেই যুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে জনতার রুদ্ররোষে তাদের সমূলে উৎখাত হতে হয়েছে, একবার নয়, অন্তত দু’বার। কেন এমনটা হয়?
সাবেক আইন উপদেষ্টা লেখেন, এই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগের খুঁজে বের করা দরকার। কিন্তু আমার ধারণা, এটি তারা করবে না। এই দলটির ডিএনএ-র মধ্যে আত্মসমালোচনা বা অনুশোচনার কোনো স্থান নেই। তারা ৩২ নম্বরকে ভাবে বাংলাদেশ, শেখ পরিবারকে ভাবে বাংলাদেশের মালিক, আর মুক্তিযুদ্ধকে মনে করে ভিন্নমতকে নিশ্চিহ্ন করার লাইসেন্স। এই মানসিকতাই তাদের জুলুম ও দমন-পীড়ন চালানোর সীমাহীন দুঃসাহস জুগিয়েছে।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও ধোয়া তুলসীপাতা নয়। তাদেরও ভুল আছে, সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো এমন সীমাহীন অনাচার করার আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতার মালিকানাবোধ এবং স্পর্ধা অন্য কোনো দলের মধ্যে আমি দেখিনি।
তিনি আরও লেখেন, শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী উৎফুল্ল হচ্ছেন। হোন। তাতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু মনে রাখবেন, আওয়ামী লীগ ফিরবে না তাতে। বরং হাজারো মানুষকে হত্যার এবং আরও বহুগুণ মানুষকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার বিচার না হলে, প্রয়োজনে আমরা আবারও রাজপথে নামব। আমিও নামব।
আসিফ নজরুল যোগ করেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমরা মৃত্যুভয়কে জয় করেই বেঁচে আছি। আল্লাহ যেদিন চাইবেন, সেদিন চলে যাব। কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকব, বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের বুকে গুলি চালানো খুনিকে একবিন্দুও ভয় করব না, এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমা করব না। জুলাই আমাদের পুনর্জন্মের নাম। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হবে, বিরোধ হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা জুলাই যে হোক, চিরদিন বাঁচব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন