প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জনবল সংকটের কারণে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঠালতলী ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল গত ২০ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ফলে, এলাকায় হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে দূর-দূরান্তে ছুটতে হচ্ছে। এর ফলে হাসপাতালের অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামও ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
২০০৬ সালের শেষের দিকে পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঠালতলী এলাকায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তৎকালীন বিএনপি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী এটি উদ্বোধন করেন। হাসপাতালটি তিন একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে এবং এখানে প্রধান ভবনের পাশাপাশি ছয়টি একতলা বাসভবন রয়েছে, যা চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালটির জন্য গ্যারেজ রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য এবং জেনারেটরের জন্য পৃথক ভবনও রয়েছে। চালুর পর এখানে সব ধরনের যন্ত্রপাতি আনা হয়, তবে কিছুদিন বহির্বিভাগে সেবা দেয়ার পর আন্তঃবিভাগ চালুর আগেই হাসপাতালটির কার্যক্রম সরকার পরিবর্তনের কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদের জন্য ১ জন এবং সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের জন্য ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্টসহ মেডিকেল অফিসার পদে ৫ জনের পদ রয়েছে, তবে বর্তমানে কেউই কর্মরত নেই। এছাড়া নার্সিং সুপারভাইজার, ২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ৪ জন মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ আরও ৫টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
১৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৩ জন কর্মরত আছেন। মোট ৪১টি পদের মধ্যে ঠিক মাত্র ৩ জন কর্মরত থাকার কারণে হাসপাতালটির কার্যক্রম কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যবহারের অভাবে অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে এবং ভবনের বেশিরভাগ কক্ষ দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকার জন্য সেখানে স্যাঁতসেঁতে অবস্থা বিরাজ করছে।
এখন পর্যন্ত স্থানীয়রা এ হাসপাতাল থেকে কোনো সেবা পাননি, এখন তারা দ্রুত জনবল নিয়োগ করে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় কালাম মৃধা বলেন, "রাতে কেউ অসুস্থ হলে ভয়াল পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে পটুয়াখালী নিতে হয়। অনেক সময় খেয়া না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।"
স্থানীয় আবুল বাসার বলেন, "অসুস্থ হলে আমাদের বরিশাল বা পটুয়াখালী যেতে হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে অনেক সময় রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় এবং কখনো কখনো পথেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়।"
হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডা. গাজী এজাজ আহমেদ বলেন, "গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর প্রেষণে ১ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ৩ জন নার্স দিয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা শুরু হয়েছে। তবে, কবে নাগাদ এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে তা নিশ্চিত নয়।"
পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, "এরই মধ্যে সংস্কার ও অর্থনৈতিক কোড চালুর জন্য আবেদন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জনবল সংকট অনেকটা দূর হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন