প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাট সদর উপজেলার সাপটিবাড়ি বাজার এলাকায় শনিবার রাতে সংবাদ প্রকাশের ঘটনার জের ধরে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন ও DRB নিউজ-এর লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি মো. রুহুল আমিন রাসেল (৩০)।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার সাপটিবাড়ি বাজারে পূর্বে প্রকাশিত একটি সংবাদের পরিস্থিতিতে হারাটি ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে ডেকে নেন। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি গোপনে ক্যামেরা চালু রেখে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে ঐ কথোপকথনের সময় অভিযুক্তরা তাকে অতর্কিতভাবে মারধর শুরু করেন।
অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, হামলায় অংশ নেন হারাটি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতাংটারী গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিক মিয়া (৪০), পিতা: মৃত আনছার আলী; কল্লোল আহমেদ (৩৮), পিতা: মৃত জয়নাল আবেদীন; এবং মো. আবু তালেব (৩৮), পিতা: মৃত আব্দুল মুন্সিসহ আরও কয়েকজন। তারা সাংবাদিককে মারধর করতে করতে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে আটকে রাখেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে সাংবাদিক রুহুল আমিন রাসেল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লালমনিরহাট সদর থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলায় তার বাম চোখের পাশ গুরুতর জখম হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক রুহুল আমিন রাসেল বলেন, "বেশ কিছুদিন আগে মো. রফিকের দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের নারী-সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে আমি সংবাদ প্রকাশ করি। ওই সংবাদ প্রকাশে রফিক বাধা দেন। এমনকি তিনি আমার ক্যামেরায় আঘাত করেও সেটি বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু আমি সংবাদটি প্রকাশই করি। ওই ব্যক্তি পরে পুলিশে সোপর্দ হন এবং আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আমার ধারনা, সেই সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা আজ আমার ওপর চালানো হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। এ ছাড়া প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। আমি লালমনিরহাট জেলার অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর ভাইয়ের কাছেও ন্যায়বিচারের আবেদন জানাচ্ছি।"
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিককে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন