প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে আমি ক্যাম্প ৪ থেকে চূড়ান্ত সামিটের উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিছুদূর যাওয়ার পর আমাকে মোকাবিলা করতে হলো একটি তুষারঝড়ের।
গগলসের ফাঁক দিয়ে আমার চোখে তুষারের কণা ঢুকে পড়ল। এরই মধ্যে ক্র্যাম্পন ছিঁড়ে পড়ার বিপত্তিতে পড়ি। লাকপা'র সহায়তায় বিপর্যয়টিকে মোকাবিলা করে সূর্যোদয় দেখতে দেখতে অবশেষে এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাই। এটি আসলে কতশ’ দিনের পরিশ্রম, অপেক্ষা, স্বপ্ন এবং সংগ্রামের ফল।
এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর পর আমি অনুভব করতে পারলাম, আমি পেরেছি, আমি আমার স্বপ্নকে ছুঁতে পেরেছি।
আজ শুক্রবার সকালে, জাতীয় প্রেসক্লাবে এভারেস্ট জয়ের গল্প এভাবে বর্ণনা করেন সদ্য এভারেস্ট জয়ী বাংলাদেশি নুরুননাহার নিম্নি।
তাঁর এভারেস্ট জয় উপলক্ষে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের পক্ষ থেকে পতাকা-প্রত্যর্পণ ও সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেপালী দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন ললিতা সিলওয়াল, বিশিষ্ট নারী অধিকার কর্মী শিরীন পারভিন হক, পূবালী ব্যাংক পিএলসি'র অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফারজিন আহমেদ ও এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত।
নুরুননাহার নিম্নি বলেন, ২২ মে সকালে আমি ক্যাম্প ৩ থেকে বের হয়ে ক্যাম্প ৪ এর উদ্দেশ্যে রওনা দিই। পুরো পথটির বেশির ভাগটাই খাড়া চড়াই ছিল। সেই সময় ভয়ংকর তুষারঝড় আমাকে আক্রমণ করে। এতে করে কোনো ভাবেই দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হয়নি।
দৃঢ় মনোবল থাকা সত্ত্বেও, বৈরি আবহাওয়ার কারণে সেদিন আমি ক্যাম্প ২-এ ফিরে আসতে বাধ্য হই।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দুইদিন পর আমি আবার যাত্রা শুরু করি। খাড়া পথ, মাঝে মাঝে রোপে ঝুলে পানি ও চকলেট খেয়ে শক্তি বজায় রাখছিলাম। অবশেষে আবহাওয়ার সাথে লড়াই করে আমি ৭ হাজার ৮শ’ মিটার উপরে ক্যাম্প ৪ পৌঁছাতে সক্ষম হই ২৬ মে।
ক্যাম্প ৪ এর উচ্চতা প্রায় আট হাজার ফুট। ক্যাম্পটি ডেথ জোন বা মৃত্যZones নামে পরিচিত। সেখানে তীব্র বাতাসে তাঁবুগুলো ছিঁড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। ক্যাম্পের চারপাশে ঝড়ের তাণ্ডবের চিহ্ন স্পষ্ট। ছেঁড়া তাঁবু, ব্যবহার করা অক্সিজেন সিলিন্ডার, চুলা, খাবার—এসব সত্ত্বেও এলোমেলো পড়ে ছিল। মোটের উপর ক্যাম্প ৪ যেন এক বিশাল ময়লার স্তূপ। গাইডের মতে, ক্যাম্প ৪ প্রায় সবসময়ই এমন ময়লা থাকে এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। উত্তরটি শুনে আমার মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আমি ফাইনাল সামিটের জন্য রওনা দেই। সে সময় আবহাওয়া পরিষ্কার ছিল এবং বাতাসও সঠিকভাবে চলছিল। গাইডসহ আমি এগিয়ে চলছিলাম। একসময় আমি হিলারি স্টেপে পৌঁছাতে সক্ষম হই। তার কিছুক্ষণ পর কাঙ্ক্ষিত এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছাই।
নিম্নির মতে, এই যাত্রা ছিল অত্যন্ত দুঃসাহসিক। প্রচণ্ড বাতাসের তীব্রতার কারণে তিনি চূড়ায় সরাসরি দাঁড়াতে পারেননি। তবে তিনি কেবল চূড়াটি ছুঁয়ে দেখেছেন। স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি ছিল অসাধারণ।
এর আগে নিম্নি ভারতে পর্বতারোহণ বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ৬ হাজার মিটারের একটি এবং ৭ হাজার মিটার একটি পর্বত তিনি আরোহণ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন