প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে গুরুতর দগ্ধ হয়ে একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাসিত তিব্বতিদের কর্মী এবং একটি গণমাধ্যম তাকে তিব্বতি কর্মী লোবগা রাংজেন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তাদের দাবি, তিনি তিব্বতের স্বাধীনতার দাবিতে নিজের গায়ে আগুন দিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জরুরি কল পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা। সেখানে ওই ব্যক্তিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে, তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশ নিহত ব্যক্তির নাম বা ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। নির্বাসিত তিব্বতিদের গণমাধ্যম ‘ভয়েস অব তিব্বত’ জানিয়েছে, তিব্বতি কর্মী লোবগা রাংজেন তিব্বতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের দাবিতে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার পর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে আত্মাহুতি দেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এএম নিউয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাংজেন একজন উবার চালক ছিলেন। তিনি একটি তিব্বতি পতাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। রাংজেনের পরিচিত ও সহকর্মী উবার চালক লোবসাং পালজর বলেন, তিনি তিব্বতিদের ওপর চীনা সরকারের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনের নতুন জাতিগত ঐক্য আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চলতি সপ্তাহে কার্যকর হওয়া এই আইন, বেইজিংকে দেশের সীমানার বাইরেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ভিত্তি দেয় বলে সমালোচকরা দাবি করেছেন।
আইনটির উদ্দেশ্য হলো চীনের ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় তৈরি করা। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তিব্বতি এবং উইঘুররাও রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী অনেক তিব্বতি এই আইনের বিরোধিতা করেছেন। এবারও তারা তিব্বত ও আশপাশের তিব্বতি অধ্যুষিত এলাকায় চীনের নীতির বিরুদ্ধে আত্মাহুতি গ্রহণের মতো চরম পদক্ষেপ নিয়েছে।
চীন ১৯৫০ সালে তিব্বতের ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। বেইজিং এই ঘটনার বর্ণনা শান্তিপূর্ণ মুক্তির বলে করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং নির্বাসিত তিব্বতিরা দীর্ঘদিন ধরে তিব্বতে চীনের নীতির সমালোচনা করে আসছে। তবে চীন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। চীনে জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে গণ্য করা হয়।
তিব্বতি ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমের আশঙ্কায় সেখানে কঠোর নজরদারি রাখা হয়। ২০১২ সালে শি চিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিব্বতে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বতের সভাপতি তেনচো গিয়াতসো লোবগা রাংজেনকে তিব্বতের একজন অক্লান্ত সমর্থক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৫০টির বেশি তিব্বতি আত্মাহুতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১০টি ঘটনা নির্বাসনে থাকা তিব্বতিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন