প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুই দশক ধরে সংস্কার না হওয়ার ফলে বেহাল অবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের মকবুল মিয়া সড়ক। এটি বৃহস্পতিবার
সড়কটির মধ্যে অসংখ্য খানাখন্দ দেখা যাচ্ছে। কোথাও সড়কের অংশ ধসে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ।
বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ পানির নিচে চলে যায়, আবার কোথাও উঁচু টিলার মতো দাঁড়িয়ে আছে। দুই যুগ আগে বসানো ইটের অস্তিত্বও বহুাংশে বিলীন হয়ে গেছে।
এ এমন অবস্থা চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ওকন্যারা গ্রামের মকবুল মিয়া সড়কের। স্থানীয়রা জানান, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই সড়কটির সংস্কার কিংবা উন্নয়নকাজ হয়নি।
তাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবতা হলো কোনও উন্নয়ন হয়নি। সড়কটির দুরবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির পাশে রয়েছে আশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, আশিয়া বাংলা বাজার, একটি কিন্ডারগার্টেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা। অপর পাশে রয়েছে বড়লিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কিন্ডারগার্টেন ও একটি মাদরাসা।
স্থানীয়রা জানান, বড়লিয়া হাসপাতালসংলগ্ন আকবর শাহ মাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে আশিয়া বাংলা বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি বড়লিয়া ও আশিয়া ইউনিয়নকে একত্রিত করেছে। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত করে।
এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছে, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ইজিবাইক চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সড়কটির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।
আশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসানের মন্তব্য, ‘প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য আমি এই সড়ক দিয়ে তিন-চারবার যাতায়াত করি। বৃষ্টি হলে রাস্তা দিয়ে হাঁটা হয় না। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাই। যদি সড়কটি সংস্কার হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার হবে।’
একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদিল ইসলামের বক্তব্য, ‘এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। এ কারণে আমি প্রায়ই স্কুলে যেতে চাই না।’
স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বর্ষাকালে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী সড়কের খানাখন্দে পড়ে আহত হতে হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি বেহাল অবস্থায় থাকার ফলে অসুস্থ রোগী অথবা গর্ভবতী নারীদের দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বয়োবৃদ্ধ নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার ছেলে ছোটবেলা থেকে এই রাস্তার একই অবস্থা দেখে আসছে। এখন সে বিদেশে থাকে, কিন্তু রাস্তার কোনও পরিবর্তন হয়নি। আমি হাঁপানির রোগী। বাজার থেকে হেঁটে এই রাস্তা পার হতে গেলেই শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।’
স্থানীয়রা আরও জানায়, জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, অনেক সময় সিএনজিও প্রবেশ করতে পারে না। ফলে রোগীদের কাঁধে বা হাতে ধরে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা সবাই রাস্তার অবস্থা জানেন। কিন্তু কেউই গুরুত্ব দেন না। অতিথি বাড়িতে এলে রাস্তার কারণে লজ্জায় পড়তে হয়।’
মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের প্রায় সব রাস্তা পাকা হয়েছে। শুধু এই সড়কটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। বৃষ্টিতে রাস্তা পুরোপুরি পানির নিচে চলে যায়। স্কুলের ছেলে-মেয়েদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা সাবের আহমদ বলেন, ‘প্রায় ১৯ বছর আগে একবার ইট বসানো হয়েছিল। এরপর আর কোনও কাজ হয়নি। হিসাব করে বছরে পর বছর শুধু আশ্বাস শুনছি, কাজ দেখতে পাইনি।’
এদিকে, সড়কটির উন্নয়নের দাবিতে স্থানীয়রা সম্প্রতি চট্টগ্রাম ১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজীর খাল সেতু থেকে ভূঁইয়া বাড়ি, কালারপাড়া হয়ে আশিয়া বাংলা বাজার পর্যন্ত মকবুল মিয়া সড়ক প্রায় দুই দশক ধরে উন্নয়নবঞ্চিত। এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বড়লিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবু মনছুর চৌধুরী বলেন, ‘সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমি জানি। নির্মাণের পর একবার ব্রিকসলিন করা হয়েছিল। এরপর আর কোনও সংস্কার হয়নি। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, ‘সড়কটি এলজিইডির তালিকাভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক। প্রয়োজনীয় কারিগরি জরিপ ও প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, ‘সড়কটি স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, ‘পটিয়ার কোনো জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবহেলিত থাকবে না। স্থানীয়দের আবেদন আমার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রস্তাবনা প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন