প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেও ইরাকের স্বপ্নের শুরুটা ভালোভাবে হয়নি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা নরওয়ের কাছে ১-৪ গোলে পরাজিত হয়েছে। এই ম্যাচে নরওয়ের তারকা আর্লিং হাল্যান্ড জোড়া গোল করে আলোচনায় এসেছেন। তবে ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেন একমাত্র গোল করে নজর কেড়েছেন পরাজয়ের মধ্যেও।
কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতার কারণেও আলোচনায় ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। শৈশবে ভুগতে হয়েছিল তাকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডির কারণে। ২০০৮ সালে, যখন তার বয়স মাত্র ১২ বছর, তখন আল-কায়েদার হামলায় নিহত হন তার বাবা, যিনি ছিলেন ইরাকি সেনাবাহিনীর সদস্য। এই ঘটনায় পরিবারের ওপর গভীর শোক নেমে আসে।
এর কিছুদিন পর আরো বড় এক আঘাত এসে পড়ে, যখন অপহরণ করা হয় তার ভাইকে, যার আজও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরপর এই দুই বিপর্যয়ে আয়মেন ভেঙে পড়েছিলেন। এমনকি একসময় ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন, কারণ পরিবারের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন নিজের কাঁধে।
তবে, তার মা তাকে ভেঙে পড়তে দেননি। তিনি ফুটবল চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন, আর সেই উৎসাহ থেকেই আয়মেনের জীবনটা বদলে যায়। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন পেশাদার ফুটবলে। ২০১৩ সালে অভিষেকের পর তিনি ইরাক, তিউনিশিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কোর বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে তার এই গোল শুধুমাত্র একটি ম্যাচের পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি ইতিহাসের অংশও। ১৯৮৬ সালের পর এটিই প্রথম বিশ্বকাপে গোল পেল ইরাক, এবং সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন আয়মেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন