প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলো বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সেখানে মাদক ও জুয়ার আসর বসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের কাছ থেকে উঠে এসেছে।
সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় নবীপুর এলাকায় মোট ১১৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘরের অধিকাংশই প্রকৃত অসহায়দের পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিজেদের এবং আত্মীয়-স্বজনদের নামে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও প্রকাশ পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলোর একটি বড় অংশ পরে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি ঘর বিক্রি হয়ে গেছে এবং অন্তত ৪০টি ঘর ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এতে আশ্রয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
এছাড়া প্রকল্পের ৩০ থেকে ৪০টি ঘরে নিয়মিত মাদক বেচাকেনা, মাদক সেবন ও জুয়ার আসর বসছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এসব অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে, তবে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এ বিষয়ে দেখা যাচ্ছে না। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তিরা এই কার্যক্রম থেকে নিয়মিত কমিশন পান।
আশ্রয়ন প্রকল্প কমিটির সভাপতি জজ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জহির মিয়া এ বিষয়ে জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও ঘর বিক্রি-ভাড়ার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা করা হয় এবং মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হয়।
তারা আরও বলেন, “আমাদের বয়স হয়েছে, তবুও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা জানিয়েছেন, একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ করা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, উল্টো মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে অভিযোগদাতাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
এ ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং আশ্রয়ন প্রকল্পকে প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য পুনর্বিন্যাসের দাবি করেছেন।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
ঘর বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের নামে সরকারি বরাদ্দ নেই, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যদি কেউ অবৈধভাবে ঘর বিক্রি বা ভাড়া দিয়ে থাকে, তবে তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীনদের কাছে ঘর হস্তান্তর করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন