প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের পরিস্থিতি অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদসহ সবকটি নদ-নদীর পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বিগত ৪ দিন ধরে নতুন করে এসব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছিল, কিন্তু এখন তা কমতে শুরু করেছে, ফলে বন্যা পরিস্থিতি তেমন পরিবর্তিত হয়নি। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে, তবে বর্তমানে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাটে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি আবারও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে রয়েছে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচে। ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি ও সেতু পয়েন্টে পানি বেড়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি কমে যাওয়ার পরও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই কারণে এসব নদ-নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে, ফলে তলিয়ে গেছে নতুন নতুন ফসল।
এদিকে, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমা এবং বাড়ার কারণে নদীতে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জে কাচকল এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার বাঁধ পুনরায় ভেঙে গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নদী ভাঙনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙার রামহরি, খিতাবখা ও বুড়িরহাট বাজার, উলিপুরের হাতিয়া, দাগারকুটি, জলাঙরকুটি সহ জেলার অনেক এলাকায় প্রবল স্রোতে নদী ভাঙছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ী ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা সুফল দিচ্ছে না।
মোগলবাসা এলাকার বাসিন্দা কুদরত আলী জানান, আমরা নয়ার চর থেকে নৌকায় এ পাড়ে আসি। মোগলবাসায় নদী ভাঙন ঠেকাতে কাজ করছে, তবে নয়ারহাটে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থাপনা ভাঙছে। তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই এখানেও বোল্ডার ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হোক।" চিলমারী উপজেলার কাচকল এলাকার বাসিন্দা জলিল মিয়া বলেন, "এই কয়দিনে বাধের রাস্তায় তিনটি ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওয়াপদা জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। খায়া যাওয়া ফির ভাঙতে থাকে। এখন বাড়িগুলো তলে গেলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?"
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, এখন নদ-নদীর পানি কমা এবং বাড়ার কারণে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার ৩৮টি স্থানে নদী ভাঙন সংঘটিত হচ্ছে। তিনি জানান, "চিলমারীর কাচকল এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা আবারও ভেঙে গেছে। শুকনো মৌসুমে এসব এলাকায় স্থায়ীভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন