প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইংল্যান্ডের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান এখন পর্যন্ত বেশ ওঠানামার মধ্যে চলছে। ইংল্যান্ড দলটি মূলত মোকাবেলা করেছে এমন সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, যারা রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলেছে এবং নেতিবাচক কৌশলে যেকোনোভাবে ম্যাচে টিকে থাকার প্রচেষ্টা করেছে।
তবে আমার বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কারণ যেসব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে, তারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই বাধ্য হবে। মেক্সিকো ম্যাচটি এর জ্বলন্ত উদাহরণ। মেক্সিকো দারুণ খেলেছে, কিন্তু নিজেদের ভুলের মূল্যও দিতে হয়েছে।
প্রতিপক্ষের নেতিবাচক ফুটবলে লাভবান ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের আগে, আমি মনে করি ইংল্যান্ড তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা প্রদর্শন করতে পারেনি। পরিস্থিতির দাবি মেনে দলটিকে ভিন্ন ধরনের ফুটবল খেলতে হয়েছে। ফলে তাদের পারফরম্যান্স হয়েছে কিছুটা বিচ্ছিন্ন এবং মুহূর্তভিত্তিক। হয়তো সেই ফুটবল সব সময় দর্শকদের চোখে নান্দনিক মনে হয়নি।
কিন্তু বড় টুর্নামেন্টে শুধু সুন্দর ফুটবল খেলেই সাফল্য আসেনা। সাফল্যের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেভাবেই হোক জয়ের পথ খুঁজে বের করা। মেক্সিকো অবশ্যই ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে এবং দুর্দান্ত লড়াই করেছে। তাদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল অসাধারণ। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতার মাঠে খেলার সুবিধা ও স্বাগতিক দর্শকদের পূর্ণ সমর্থন।
তারপরও আমার কাছে মনে হয়েছে, ইংল্যান্ডের রক্ষণ ছিল দারুণ সুশৃঙ্খল এবং আক্রমণে তারা নিখুঁত ও কার্যকর ছিল। প্রায় ৪০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলা যে কতটা কঠিন, তা সবার জানা। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলটি যে সাহস, ঐক্য এবং লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। তবে একে শুধু একটি জয় হিসেবেই দেখা উচিত। এখন সামনে কোয়ার্টার ফাইনাল। তাই বিনয়ী থাকতে হবে, মনোযোগ ধরে রাখতে হবে এবং কোনভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না।
ইংল্যান্ড দলে যেমন কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তেমনই বেশ কিছু বড় শক্তির জায়গাও আছে। হ্যারি কেইন অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত এবং বিশ্বমানের একজন ফুটবলার। আর জুড বেলিংহাম এমন ব্যক্তি, যিনি একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম। এই বিশ্বকাপেও তিনি সেটি প্রমাণ করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ম্যাচজয়ীদের একজন। আমি আগেও বলেছি, ইংল্যান্ড হয়তো এখন পর্যন্ত চোখ-ধাঁধানো ফুটবল খেলেনি, কিন্তু তারা ধারাবাহিকভাবে জয়ী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে; আর বড় টুর্নামেন্টে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার মতে, মেক্সিকোকে হারানোর ম্যাচটি ইংল্যান্ডের সত্যিকার টার্নিং পয়েন্ট। তবে সামনে আরো বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ নরওয়ে। সেখানে আর্লিং হাল্যান্ডের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। সে দুর্দান্ত একজন ফিনিশার এবং শারীরিক সক্ষমতায় অনন্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন