প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ছবি : রয়টার্স
দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান ইসরায়েল অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন, অঞ্চলটির ভৌগোলিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিজেদের কৌশল অনুযায়ী পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
এই অবস্থার ফলে লেবানন সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনী ক্রমেই কঠিন অবস্থার সন্মুখীন হচ্ছে।
লেভান্ট ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সামি নাদের জানিয়েছেন, ইসরায়েল শুধু সামরিক অভিযানই চালাচ্ছে না, বরং দক্ষিণ লেবাননের বাস্তবতাকেও নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তারা স্থল অভিযান ও বিভিন্ন এলাকা দখলের কার্যক্রমকেও অব্যাহত রেখেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাদের বলেন, চলমান পরিস্থিতি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এতে সরকারের চেষ্টা শুরু থেকেই লক্ষ্য থাকে যে, লেবাননের সংকটকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সঙ্গে এক করে না দেখা হয়।
তার মতে, লেবানন সরকার বারবার বলছে যে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক সংঘাত থেকে আলাদা রাখা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি দিন দিন আরো জটিল হয়ে উঠছে।
নাদের বলেছেন, বিশেষ করে লেবাননের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করলে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক এবং প্রচারণামূলক অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়ে যায়। এই অবস্থায় সরকারের এবং সেনাবাহিনীর জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরো বলেন, লেবানন শুরু থেকেই এ সংঘাতে জড়াতে চায়নি। কিন্তু আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন পক্ষের পদক্ষেপের কারণে দেশটি ক্রমেই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুর দিকে চলে যাচ্ছে।
নাদেরের দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্য হিজবুল্লাহ লেবাননকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে লেবাননের সেনাবাহিনীর জন্য কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করা সহজ নয়।
তার ভাষায়, হিজবুল্লাহ এখনো লেবানন সরকারের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেনে নিতে রাজি নয়। সংগঠনটি তাদের অস্ত্র জমা দিচ্ছে না। ফলে সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। নাদেরের মতে, এর মাধ্যমে ইসরায়েল ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক বাস্তবতা নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় রয়েছে লেবাননের সেনাবাহিনী। একদিকে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি ও কার্যক্রম, অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান- দুই পক্ষের চাপের মধ্যে সেনাবাহিনী কার্যত মাঝখানে আটকে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ লেবাননে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা আরো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে লেবানন সরকারের জন্যও দেশের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে.
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন