প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের তেল পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে জাল সামুদ্রিক নিবন্ধন ও সনদ দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় এক দম্পতি এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই ব্যক্তিরা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্থানীয় সময় বুধবার এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, "ইরান সরকারকে যারা সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার অভিযানের (অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট) অধীনে হয় আপনি আমাদের পক্ষে, নয়তো বিপক্ষে। আমরা জানি আপনি কোথায় আছেন। যারা ইরান সরকারকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। তারা স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথে যেভাবেই সহায়তা করুক না কেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা দম্পতির নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন ভারতীয় সুনীল কুমার শর্মা এবং তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শাহিদ। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এই দম্পতি এমন একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন, যারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলোকে জাল পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ দিত। এই জাহাজগুলো ইরানের তেল পরিবহন করত, যার মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর ব্যবহৃত জাহাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শর্মা ও শাহিদ বিভিন্ন দেশের অনুমতি ছাড়াই সেসব দেশের পক্ষে সামুদ্রিক সেবা দেওয়ার দাবি করে ওয়েবসাইট তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তারা জাল জাহাজ নিবন্ধন ও মান যাচাইয়ের সেবা প্রদান করতেন। মন্ত্রণালয়ের দাবি, অন্তত ২০১৪ সাল থেকে তাদের এসব কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই সময় তারা ক্যারিবীয় দেশ ডোমিনিকার জাহাজ নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের পরিচয় নকল করার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের নেটওয়ার্ক ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিবন্ধন সেবা প্রদান করত, যার মাধ্যমে জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে পারত বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।
ভারতভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও ওই দম্পতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ওশানিয়েক টেকনোলজিস ইন্ডিয়া, আর্যাবর্ত শিপ ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, প্রিসেপ্ট ট্রেন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড, পলিনেশিয়া মেরিটাইম প্রাইভেট লিমিটেড, অ্যালেক্সারিয়া ফিনসার্ভ প্রাইভেট লিমিটেড, অ্যালেক্সারিয়া মিডিয়া অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, বিহারাবোটিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং আর্যাবর্ত মেরিটাইম অ্যান্ড এডুকেশনাল ট্রাস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৩৯০২ নম্বর নির্বাহী আদেশের আওতায় এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই আদেশের লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো, যার মধ্যে তেল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং বিমান পরিবহন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, আলাদা একটি পদক্ষেপে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থাকে বিমানবন্দরে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব বিমান সংস্থার মধ্যে রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, সেপেহরান এয়ারলাইনস, ভারেশ এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস এবং আতা এয়ারলাইনস কম্পানি।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইরানের বিমান পরিবহন খাতকে সহায়তা করলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তারা এসব বিমান সংস্থাকে সেবা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া সামুদ্রিক পরিবহন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে জাল পতাকা ব্যবহার করতে পারে—এমন জাহাজের সঙ্গে ব্যবসা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, জাল নিবন্ধন ব্যবহার করে জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন এড়িয়ে চলতে পারে।
এতে জাহাজের কর্মীদের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার নিয়মও লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের এই অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন বেসেন্ট। এর লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসগুলোতে বাধা সৃষ্টি করা। এই অভিযানের আওতায় তেল চোরাচালান, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যেসব সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের আইনি এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে, সেগুলো জব্দ করা হবে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সাধারণভাবে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অনুমতি বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় থাকলে লেনদেন করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, এসব নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন