প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থীকে কক্ষে আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জোরপূর্বক লিখিত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ এবং ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি শিক্ষার্থীদের সামনে প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
এর আগে রবিবার নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। ইব্রাহীমের অভিযোগ, হলের বিভিন্ন সংকট এবং প্রভোস্টের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করার কারণে তাঁকে প্রভোস্ট কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
ইব্রাহীম জানিয়েছেন, হলের শিক্ষার্থীদের পছন্দের একটি খাবারের দোকান বন্ধ করে দেওয়া, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে বাজেট না দেওয়ার বিষয় তুলে ধরে তিনি ওই পোস্টটি করেছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে আগে থেকেই তিনি মোবাইল ফোনে অডিও রেকর্ড চালু করে প্রভোস্টের কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, কথাবার্তার একপর্যায়ে প্রভোস্ট চিৎকার করে ওঠেন এবং তাঁর নির্দেশে হলের ইলেকট্রিশিয়ান মারুফ ও প্রধান সহকারী আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন স্টাফ জোরপূর্বক তাঁর ফোন কেড়ে নেন। এরপর কক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাঁর ফোন পরীক্ষা করা হয়। এ সময় তাঁকে হলের আবাসিক সিট এবং ছাত্রত্ব বাতিল করার, সাইবার মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। তাঁকে ‘হল সংসদের নেতাদের প্ররোচনায় ফেসবুকে লিখেছেন’—এমন একটি লিখিত বক্তব্যে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন ইব্রাহীম। এ সময়ে তাঁর মাকেও ফোন করা হয়।
তবে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুন এসব শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, না জেনে-শুনে ফেসবুকে হলের বিষয়ে লেখালেখি করার জন্য ইব্রাহীমকে ডেকে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছিল।
প্রভোস্ট বলেন, হলের খেলাধুলার জন্য কোনো বরাদ্দ আসে না, হল প্রশাসন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। এসব না জেনে ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে সমালোচনা করে। কথাবার্তার একপর্যায়ে ইব্রাহীম নিজের ভুল স্বীকার করে। অনুমতি ছাড়া কথাবার্তা রেকর্ড করতে দেখে তাঁর মাকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়, যেন ভবিষ্যতে সে এ ধরনের কাজ না করে।
মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুন আরও জানান, ইব্রাহীমকে বসিয়ে নাশতা করানো হয়েছে এবং তাঁর মাকেও আশ্বস্ত করা হয়েছে। পরে সে ক্ষমা চেয়ে বেরিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার আগে শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য জেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন