১০:৫৫ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর ঢাকার সাথে কুয়ালালামপুরের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, এই তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে, দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং বাণিজ্য, শ্রম ও কৌশলগত সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বললেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া সম্মত হয়েছে। দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি পারস্পরিক লাভজনক, বিস্তৃত ও ভবিষ্যতমুখী এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: মঞ্জু: ৫ আগস্টও এনে দিয়েছে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। সফরের ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দুই দেশের উষ্ণ সম্পর্ক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দৃঢ় ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা গেছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, সফরটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল নিয়ে এসেছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এছাড়াও, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে মন্ত্রিপর্যায়ে দুটি নথি বিনিময় হয়েছে।
দুই দেশ তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ সভা (বিসিএম) দ্রুত পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ ব্যবসা পরিষদ গঠনের অগ্রগতিকে উভয় দেশ স্বাগত জানিয়েছে এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসা-টু-ব্যবসা যোগাযোগ, নিয়মিত সংলাপ ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে: এমপি রানু
শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উভয় দেশ নিরাপদ, নিয়মিত ও স্বচ্ছ শ্রম অভিবাসনে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ৮ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতে, বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু, দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ সহজ করা, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতা প্রদান, অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ ব্যয় কমানোর বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
তিনি আরো জানান, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) মাধ্যমে বিদ্যমান শ্রম সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, যা বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বা হালনাগাদ চুক্তির পথ সুগম করবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টেকসই সমাধান এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়ে আসিয়ান কাঠামোর মাধ্যমে উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছে দেশটি।
এছাড়া, বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আঞ্চলিক এই জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা জোরদারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
আরও পড়ুন: সবার আগে বাংলাদেশ, দিল্লি বা পিন্ডি নয়: প্রধানমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, বৈদ্যুতিক যান, প্রযুক্তি স্থানান্তর, বন্দর ও লজিস্টিকসসহ অগ্রাধিকার খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে মালয়েশিয়া জোরালো আগ্রহ দেখিয়েছে।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন