প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার প্রবেশদ্বার এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌবন্দর বর্তমানে বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জেটির অভাব এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নাব্য সংকটের কারণে বড় পণ্যবাহী জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারছে না। এই কারণে মাঝনদীতে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে ছোট লাইটারেজ (হালকা) জাহাজে করে বন্দরে আনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী এবং ঘাট ইজারাদাররা এর ফলে বিশাল অঙ্কের লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন, এবং বন্দরে কর্মরত বহু শ্রমিকের কাজ কমে যাওয়ায় তারা দুরবস্থায় পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দর যেমন চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলা থেকে প্রতিদিন বড় জাহাজগুলো বন্দরে আসে সার, কয়লা, সিমেন্ট, জ্বালানি তেল, চাল ও গমসহ নানা প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে। কিন্তু যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানগুলিতে নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় বড় জাহাজগুলো বাঘাবাড়ী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আলম শেখ বলেন, 'সবিস্তারভাবে দেখলে নাব্যতা সংকটের কারণে আমাদেরকে বড় জাহাজগুলো সরাসরি ঘাটে ভিড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে না। দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় সেগুলো আটকে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে পণ্য বন্দরে আনতে হচ্ছে। এই কারণে পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে গেছে।'
বন্দরটির ইজারাদার আনিছুর রহমান মন্তব্য করেছেন, 'নাব্যতা সংকট এখানে একমাত্র সমস্যা নয়। পর্যাপ্ত জেটি এবং মালামাল নিরাপদে রাখার জন্য শেডের অভাব রয়েছে। পণ্য লোড-আনলোডের জন্য কোন আধুনিক সুবিধার অভাব রয়েছে। এসব কারণে দিন দিন বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়ছে। আর কাজ কমে যাওয়ায় বন্দরের হাজার হাজার শ্রমিক বর্তমানে বেকারে সময় কাটাচ্ছেন।' তিনি দ্রুত নৌ-চ্যানেল খনন (ড্রেজিং) এবং বন্দরটির আধুনিকায়নের জন্য জোর দাবি জানান।
বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের পোর্ট অফিসার মাহাবুব আলম তায়েব জানিয়েছেন, 'বন্দরটির গুরুত্বকে বিবেচনায় রেখে এটিকে ২য় শ্রেণী থেকে ১ম শ্রেণীতে উন্নত করা এবং সামগ্রিক আধুনিকায়নের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প তৈরির কাজ গুরুত্বপূর্ণভাবে চলছে।'
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, 'বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। দ্রুত ড্রেজিং এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।'
স্থানীয়দের দাবি, ১৬ জেলার সার ও জ্বালানি তেলের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরটিকে দ্রুত কার্যকর করে এবং আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন