প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে একটি ‘ডিপ পাওয়ার’ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে প্রভাবিত করছে। একই সময়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমর্থকদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘‘জুলাইকে মুছে ফেলতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে।’’ সাবেক শিবির সভাপতি তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, গতকালকের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন ও মেসেজ পাঠিয়ে তাদের কষ্টের কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ পোস্টটি মুছে ফেলতে বলেছেন, কেউ বলেছেন—“কথাগুলো ঠিক, কিন্তু পোস্টটি আপনি না দিলে ভালো হতো।” আবার অনেকে পোস্টটির ব্যাখ্যাও জানতে চেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যারা তাকে অনুসরণ করেন বা পূর্বে তার কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন—ব্যক্তিগতভাবে তিনি শুধু শুভাকাঙ্ক্ষীদের নয়, সমালোচক ও আদর্শিক প্রতিপক্ষের মতামতকেও গুরুত্ব দেন। ছাত্রশিবির তাকে সেই মৌলিক শিক্ষা দিয়েছে। সেই সম্মানের আসন থেকে তার কিছু চিন্তা ও উপলব্ধি তুলে ধরতে চান।
জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনীতি যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা নিশ্চয়ই জানতে পারবেন—কীভাবে ডিপ স্টেট বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর রাজনীতিকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী প্রভাবিত করতে নানা ষড়যন্ত্র করে। রাজনৈতিক খেলা এবং দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি করে তারা রাজনৈতিক সুযোগ গ্রহণ করে। অনেক সময় এগুলোকে দৃশ্যমান রাজনৈতিক শক্তির পারস্পরিক বিরোধ মনে হলেও, এর পেছনের শক্তি সাধারণত অধরা থেকে যায়।
তিনি হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হামলাকে পরিকল্পিত বললেও, সেখানে এনসিপি বা বিএনপির নাম উল্লেখ করেননি। এক্ষেত্রে তিনি বলছেন—“ডিপ পাওয়ার।” তার বক্তব্য হলো, ডিপ পাওয়ার কোন রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে নেই; বরং তারা বিভিন্ন দলকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ বা জনপরিসরে এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করার জন্য বেশি সুযোগও নেই। শহীদ ওসমান হাদী এ ট্যাবু ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন, যার পরিণতি ছিল তার শাহাদাত।
তিনি আরও বলেন, যতদিন ডিপ পাওয়ার সক্রিয় থাকবে, ততদিন গণতন্ত্র একটি প্রহসনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকবে এবং ইনসাফের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। জুলাইয়ের পর জুলাই যোদ্ধা কিংবা এনসিপির ওপর যে হামলা হয়েছে, ছাত্রশিবির এবং জামায়াত সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
গত বছর গাজীপুরের হাসনাতের গাড়িতে হামলার পর তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও প্রতিবাদ এবং গোপালগঞ্জের ঘটনার পর দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপের মতো নানা উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হবিগঞ্জের ঘটনার পরপরই ছাত্রশিবির বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সংগঠনগুলো একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, এনসিপি স্বাভাবিক গতিতেই উন্নতি করবে, সেটাই প্রয়োজন। কিন্তু ডিপ স্টেটের কৌশলের মাধ্যমে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে চাওয়া হচ্ছে। এনসিপিকে দুর্বল করা গেলে জুলাইয়ের শক্তিকেও দুর্বল করার উদ্যোগ চলে আসবে—এটাই তাদের কৌশল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনসিপির নেতৃবৃন্দ প্রকৃত ষড়যন্ত্রটি বুঝতে পারবে।
তিনি বিএনপির বর্তমান অবস্থা দুটি ধারায় দেখেন। একটি ধারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে, যার প্রতি তার আন্তরিক শ্রদ্ধা রয়েছে। অপর অংশটি ডিপ পাওয়ারের প্রভাবে নিজেদের ও দেশবিরোধী স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। তিনি বাংলাদেশপন্থী বিএনপিকে সব সময় সমর্থন দেবেন। তবে দ্বিতীয় ধারার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়াও বিএনপি আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম সঙ্গী বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জাহিদুল ইসলাম আশা করেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদীদের দেখানো রাজনীতির পথে না হেঁটে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করবে।
ডিপ পাওয়ারের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে তিনি বলেন, জুলাইকে মুছে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। জুলাই মাসজুড়ে আলোচনায় থাকার কথা ছিল জুলাইয়ের স্মৃতি, শহীদ ও আহতদের ত্যাগ এবং বিপ্লবের প্রেরণা। কিন্তু আসলে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ইস্যুকে সামনে এনে জুলাইকে আলোচনার বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে তিনি সকলকে যা প্রধান সূচক মনে করেন, তা হলো—জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জামায়াত, বিএনপি, এনসিপিসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, জুলাইয়ের সব শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশ পথ হারাবে না এবং জুলাইকে কেউ মুছে ফেলতে পারবেন না।
রাজনীতির দৃশ্যমান অংশের অপেক্ষা অবধারিতভাবে পানির নিচে থাকে। তিনি জামায়াত, বিএনপির বাংলাদেশপন্থী অংশ, এনসিপি এবং সকল দেশপ্রেমিক দল ও মানুষের জন্য অনুরোধ করেন, তারা যেন দৃশ্যমান রাজনীতির পাশাপাশি অদৃশ্য বাস্তবতাকেও অনুধাবন করে। সেজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন