ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ডলার ব্যক্তি নাকি মুদ্রা, যাচাই করতে হবে: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী


ডলার ব্যক্তি নাকি মুদ্রা, যাচাই করতে হবে: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেছেন, রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি সোহেল রানা ডলারের নামটি তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেননি। এই নামটি চার্জশিটেও নেই। সুতরাং, ডলার একটি দেশের মুদ্রার নাম। এটি একটি ব্যক্তি কি না, সেটি আগে যাচাই করতে হবে।

বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে তিনি এ কথা বলেন। শুনানি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে শুনানি শেষে বিচারক সোহেল রানার কাছে জানতে চান, তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আছে কি না। এ সময় সোহেল রানা আবারও বলেছেন, ডলার নামক একজনকে ধরতে বলছেন।

আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু

আইনজীবী আরো বলেন, আসামি সোহেল রানা আজ আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন এবং মাফও চেয়েছেন। আগামীকাল আদালত যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

অপরদিকে, রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সোহেল রানা আদালতে যা বলেছেন, তাতে তার দোষ স্বীকারই প্রতিফলিত হয়েছে।

আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির সময় বিচারক সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না। পরে সোহেল বলেন, ‘জি স্যার, আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করিনি তা -না, আমিও দোষ করেছি।’

‘আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।’ পরে স্বপ্না আক্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছু করিনি, আমি নির্দোষ।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে শিশুদের আঁকায় জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শিত

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে ১১টা ২৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়।

এদিন সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ১০টা ৫৭ মিনিটে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে কোর্টে ওঠেন।

পরে আজ আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানি করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহও আদালতে ছিলেন।

গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পরে গতকাল ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

আরও পড়ুন: স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভেতর পাওয়া গেল ধারালো ব্লেড

এর আগে, গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটটি আমলে নিয়ে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একই দিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যান। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করেন, একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ায় রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পায়।

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য আহত

এই ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলার পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃদ্ধা মায়ের লাশে পচন নিয়ে ফখরুলকন্যার প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


বৃদ্ধা মায়ের লাশে পচন নিয়ে ফখরুলকন্যার প্রতিক্রিয়া

রাজধানীর মিরপুরে এক বৃদ্ধা নারীর পচাগলা লাশ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে দেশে প্রবীণদের নিরাপত্তা, পরিচর্যা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, একজন মায়ের এমন পরিণতি হচ্ছে শুধুমাত্র একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রবীণ সেবা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার উপরও আলোকপাত করেছে।

ড. শামারুহ মির্জা জানান, প্রবীণদের কল্যাণের জন্য বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জনস্বাস্থ্য নিয়ে নানা আলোচনা হলেও, বয়স্ক নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়।

শামারুহ মির্জা তার লেখায় প্রবীণদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিতে বলছেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রবীণ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে জীবন কাটাতে চান। সেজন্য বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা, স্বাস্থ্য সেবা, খাবার সরবরাহ এবং চলাচলে সহায়তার মতো সেবাগুলো বৃদ্ধি করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়ন, বয়স্কদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারী তৈরির উদ্যোগ এবং সামাজিক একাকিত্ব দূর করতে কমিউনিটি ভিত্তিক কার্যক্রম চালনার পরামর্শ দেন।

ড. শামারুহর দাবি, দেশে প্রবীণ জনগণের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সেইজন্য প্রবীণদের স্বাস্থ্য, আবাসন, আয় এবং সামাজিক চাহিদার বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিমালা তৈরি করা একান্ত দরকার।

তিনি উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণ সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিশেষ স্বাস্থ্যসুবিধা কার্যকর করা, পরিচর্যাকারী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে সেবার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

ড. শামারুহ মির্জা তাঁর কথায় বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে বাবা-মায়ের সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পরিবারের সদস্যরা যতদিন সম্ভব প্রবীণ স্বজনদের পাশে থাকবেন—এটাই প্রত্যাশিত। তবে বাস্তবতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব না হলে, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি মন্তব্য করেন, একজন মায়ের এমন করুণ পরিণতি শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য দুঃখজনক এবং এটি ভবিষ্যতে প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা, বেশ কয়েকজন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা, বেশ কয়েকজন নিহত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন। বর্বর এই হামলায় আহতের সংখ্যা বেশ কয়েকজন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি গাড়ির ওপর বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামলার পর গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। একই দিনে মধ্য গাজার জাওয়াইদা এলাকাতেও আলাদা হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে আরও কিছু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এসব হামলার ব্যাপারে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, তাদের সামরিক অভিযান মূলত হামাসের যোদ্ধা ও অবকাঠামোর দিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অভিযোগ, চলমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। অস্ত্র সমর্পণ, সেনা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মতপার্থক্যের কারণে সমাধান এখনও দূরের কথা।

চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ : বাংলাদেশ-নেপাল মুখোমুখি, পরিসংখ্যান কী বলছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ : বাংলাদেশ-নেপাল মুখোমুখি, পরিসংখ্যান কী বলছে?

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের উদ্দেশ্য হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া। যদি দুই ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়, তাহলে তাদের জন্য ইতিহাস রচনা হয়ে যাবে। তবে, মেয়েদের সেমিফাইনাল পার করার বিষয়টি নিয়ে কিছু সংশয় আছে। বাংলাদেশের নারী দল এবং নেপাল এর পূর্ববর্তী দুই আসরে ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। কিন্তু এবার ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আজ বুধবার দুই দেশের মেয়েরা সেমিফাইনালে লড়াই করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও নেপালের সামনে উভয় মুখোমুখি হয়ে টানা তিনবার অর্থাৎ ফাইনাল খেলার সুযোগ রয়েছে। আগের দুই আসরে বাংলাদেশ নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তাদের মাটিতেই। কিন্তু এইবার প্রশ্ন উঠেছে, নেপালের সঙ্গে আবারও হারানো যাবে কি না এবং ট্রফি হাতছাড়া হয়ে যাবে কি না। বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে এবং টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে, তবে সেমিফাইনাল নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২২ এবং ২০২৪ সাল থেকে ভিন্ন পরিস্থিতির জন্য তাঁদের চিন্তা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে এই দুই পরাশক্তির মধ্যে মাঠের লড়াইয়ের ইতিহাসটি বেশ দীর্ঘ এবং রোমাঞ্চকর। সাফের এখন পর্যন্ত সাতটি আসরের পরিসংখ্যান দেখালে দেখা যায়, দুই দল মোট পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে নেপাল জয় পেয়েছে তিন ম্যাচে এবং বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুই ম্যাচে। নেপাল মোট ৯টি গোল দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ৫টি গোল দিয়েছে।

২০১০ সালে বাংলাদেশে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালকে স্মরণ করতে হয়, যেখানে বাংলাদেশ এবং নেপাল প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই প্রথম দেখায় বাংলাদেশ ৩-০ গোলে নেপালের কাছে পরাজিত হয়েছিল এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরে দুই দলের মধ্যে কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। ২০১৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আসরে সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সেবার বাংলাদেশ নেপালের কাছে আবার হেরে যায়, কিন্তু ম্যাচটি ছিল তুমুল লড়াই এবং বাংলাদেশ ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল, যা সাজানা রানার ৫৬ মিনিটে করা পেনাল্টি গোলের কারণে হয়েছিল।

ভারতে ২০১৬ সালে চতুর্থ সাফে এই দুই দলের দেখা না হলেও, ২০১৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আসরে গ্রুপ পর্বে তারা আবার মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়। কিন্তু ২০২২ সালের ষষ্ঠ আসরে গল্পটি পুরোপুরি বদলে যায়। কাঠমান্ডুতে ঐতিহাসিক ফাইনালে বাংলাদেশ নেপালকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে প্রথমবার সাফের শিরোপা জয় করে।

২০২৪ সালে সর্বশেষ আসরেও তারা মুখোমুখি হয়, আবার কাঠমান্ডুতে ম্যাচ খেলে, যেখানে বাংলাদেশ নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে। দুটি আসরের ফাইনালে দেখা হওয়ার পর, ১২ বছর পর আজ আবারও তারা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যদি জয়লাভ করে, তবে টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লক্ষ্য পূরণ হবে এবং তারা ফাইনালে প্রবেশের টিকিট পাবে। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় ম্যাচটি শুরু হতে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে মসজিদ উদ্বোধন করে পাকিস্তান বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


জাপানে মসজিদ উদ্বোধন করে পাকিস্তান বিপাকে

গত এপ্রিল মাসে জাপানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ একটি মসজিদ উদ্বোধন করেন। তবে জাপানের স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মসজিদটি জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের কাওয়াগোয়ে এলাকায় অবস্থিত।

জাপানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে, টোকিওতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস এই মসজিদ প্রকল্প থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেয়।

জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য আসাহি শিম্বুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাওয়াগোয়ে শহরের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বর্গমিটার পাহাড়ি বনভূমির ওপর এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, এই অঞ্চলটি মূলত একটি নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এলাকা, যেখানে সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী ভবন নির্মাণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কাওয়াগোয়ে সিটি কর্পোরেশন এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নগর পরিকল্পনা আইনের তোয়াক্কা না করে এবং নগর প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের বৈধ ছাড়পত্র বা অনুমতি ছাড়াই এই মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। মসজিদটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পাকিস্তান দূতাবাস গত ৩১ মে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা রাষ্ট্রদূতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, জাপানি আইন মেনে সব ধরনের সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত সেই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে গিয়েছিলেন বলেও দূতাবাস স্পষ্ট করেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের সাথে পাকিস্তান সরকারের কোনো আর্থিক বা সাংগঠনিক সংযোগ নেই।

এদিকে, জাপানের প্রাচীনতম ‘ইয়াশিও মসজিদ’ কমিটির প্রতিনিধি শাকিল শেখ মোহাম্মদ এই প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া এভাবে ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ করা মোটেও সঠিক কাজ নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় জাপানি অধিবাসীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং দেশের আইন মেনে চলার মাধ্যমেই একটি মসজিদের পবিত্র পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব।

এই বিতর্কের জেরে, টোকিওর পাকিস্তান দূতাবাস গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জাপানে বসবাসরত সকল পাকিস্তানি নাগরিককে ধর্মীয় স্থান নির্মাণের ক্ষেত্রে জাপানি আইন ও স্থানীয় সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%