প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডিজিটাল বেটিং এবং এর সাথে সম্পর্কিত আর্থিক অপরাধ দমনে সরকারের উদ্যোগ হিসেবে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তথ্য জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে এমন তথ্য প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিলের ঘোষণা অনুযায়ী ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরো অবগত করেন, এই আইনের আওতায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি কিংবা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ করা, এমন কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া, জুয়ার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রচার বা বিপণন করা এসব শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে।
এই ধরনের অপরাধের জন্য দুই বছরের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকার অর্থদণ্ড কিংবা উভয় ধরনের দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, অনলাইন জুয়া এবং ডিজিটাল হুন্ডির কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর বিএফআইইউ অনলাইন জুয়া নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে যা ২০২৬ সালের মে মাসে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে জমা দেওয়া হয়।
এদিকে, সিআইডি এ ঘটনার উপরে একটি মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম এখন চলমান রয়েছে উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পর্কিত লেনদেনের উপর বিএফআইইউ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য আরও গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।
তিনি আরো জানান, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সকল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছিল।
এ নির্দেশনায় এমএফএস সেবা প্রদানকারীদের মার্চেন্ট এবং গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পর্কিততা শনাক্ত করতে বলা হয়। যদি কোনো মার্চেন্ট বা গ্রাহক এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকে তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়।
এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন অর্থমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন