প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে তার বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। দেশের জনগণ চায় তার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক। পাশাপাশি তার প্রত্যর্পণের জন্য ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে।’
আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক চাপ নিয়ে ভাবছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে, (ক্ষমতাচ্যুত) শেখ হাসিনার বিচারের লক্ষ্যে তাকে প্রত্যর্পণ করতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়া হয়েছে। আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি, কারণ এই রাষ্ট্রে ‘ইনসাফ’ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘এ দেশের জনগণ দেখতে চায় শেখ হাসিনা যে অপরাধ করেছেন, তার বিচার হোক এবং ইতোমধ্যে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে তা বহাল ও কার্যকর হোক।’
উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইসিটি আইনকে অত্যন্ত আধুনিক ও বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী সংস্কার করা হয়েছে। শেখ হাসিনা চাইলে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম বিদেশি আইনজীবী এনে নিজেকে ডিফেন্ড করার সুযোগ পাবেন। এই আইসিটি আদালতে বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং বিচার প্রক্রিয়াকে ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘একেবারে স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া চলবে। তবে আদালতে শেখ হাসিনা যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, যে তিনি অপরাধী নন, সেক্ষেত্রে আদালত অন্য কোনো শাস্তিও দিতে পারে। সেজন্য বলছি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার এক ব্যক্তিকে সরকার জাস্টিস দিতে চাই। জাস্টিস মূলত এভাবেই নিশ্চিত করতে হয়।’
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা কোনো নির্বাহী আদেশ বা সরকারের সিদ্ধান্ত নয়। এটি সরাসরি আদালতের নির্দেশনা। রাষ্ট্র পরিচালনা ও আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভ বডি হিসেবে সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের এই নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা। যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা গণমাধ্যম কর্মী মনে করেন এই আদেশে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তবে তারা আদালতে গিয়ে এটি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আদালত উঠিয়ে নিলে নিষেধাজ্ঞা ভারি হবে, তবে যতক্ষণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, সবাইকে রাষ্ট্রের আইন মানতে হবে।’
সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে দ্বার্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করেছে তারা সংসদে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে কাজ করবে। তবে উচ্চকক্ষ গঠনসহ সনদের কিছু বিষয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল, যা তারা আগেই জনগণকে জানিয়ে নির্বাচনের ম্যান্ডেট নিয়েছে।’
তিনি বিরোধী দল বা জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের গণভোটের বিতর্কে না জড়িয়ে বিরোধী দলের উচিত এই সংলাপে ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেওয়া। তারা আলোচনার মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুক। পার্লামেন্টে জনগণের সামনে তাদের যুক্তি তুলে ধরে। নির্বাচনী ব্যবস্থা বা গণতন্ত্র এভাবেই কাজ করে।’
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে যা হচ্ছে তা বন্যা নয়, মূলত দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। আগের সরকার চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও তার একটি ছোট ভগ্নাংশ মাত্র কার্যকর হয়েছে, যা মূলত দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফসল। বর্তমান সরকার এই কাঠামোগত সংকট নিরসনে নতুন করে কাজ শুরু করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন