প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রায় ৩৯ বছর পরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের টাইফুন ‘বাভি’ চীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে। ঘণ্টায় প্রায় ২০৯ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে আসা এই ধরনের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, ১৯৮৭ সালের পর এই অঞ্চলে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় টাইফুন হিসেবে আবহাওয়াবিদরা উল্লেখ করেন।
তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তাইপে এবং আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত করে রেখেছে। পাশাপাশি উপকূলীয় সকল এলাকায় জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের টাইফুন ‘কং-রে’র পর এটি সম্ভবত তাইওয়ানে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হতে পারে। এর আগে কং-রে টাইফুনের ফলে তিনজন নিহত হয়েছিল।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানায়, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার প্রশস্ত টাইফুন ‘বাভি’ উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক বছরে এত বড় আকারের টাইফুন মনে করা হচ্ছে খুবই বিরল। তার মতে, ১৯৮৭ সালের পর বাভিই হতে পারে দ্বীপটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় টাইফুন।
এদিকে, কয়েকদিন আগে টাইফুন ‘মায়সাক’এর আঘাতে চীন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গুয়াংজি অঞ্চলে ওই ঝড়ের ফলে অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখনো অন্তত ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারের অভিযান এ মুহূর্তেও অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, তাইওয়ান ও জাপানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরে সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলতে পারে।
বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস জানান, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে ঝড়ের বাতাস কিছুটা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তাইওয়ান এবং পূর্ব চীনে আঘাত হানার সময় এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে।
অন্যদিকে, জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। টাইফুনের প্রভাবে জাপান এয়ারলাইন্স ৫০টি এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ৬৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং জানান, দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার কারণে টাইফুন ‘বাভি’ বিপুল শক্তি এবং আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে। ফলে এটি স্থলভাগে আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন