প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার প্রতিপাদ্য হলো "মাদককে না বলুন, খেলাকে হ্যাঁ বলুন"। এই আয়োজনে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী সবুজ সেনা এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন ক্রীড়া পরিষদের আয়োজনে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ আনন্দ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬।
এই টুর্নামেন্টে টানা তিনদিন ধরে ২৩টি ব্যাচ অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ড, সেমিফাইনাল, এবং ফাইনালের মধ্যে দিয়ে গতকাল এই প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে। ফাইনালে ২০১৬ ব্যাচ ও ২০২১ ব্যাচ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করে। একতরফা খেলায় ২০২১ ব্যাচ ৫-০ গোলের ব্যবধানে ২০১৬ ব্যাচকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস. এ. জিন্নাহ কবিরের উপস্থিতিতে। সভাপতিত্ব করেন চরকাটারী সবুজ সেনা এলামনাই ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মো. মহিদুর রহমান।
এই সময় চরকাটারী সবুজ সেনা এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. আরশাদ উল্লাহ, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মো. আব্দুল করিম, সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাসুদুল করিমসহ এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন মো. সিহাব মাস্টার এবং আব্দুল লতিফ। ধারাভাষ্য প্রদান করেন মো. মনির হোসেন। অনুষ্ঠানে চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল হক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা যাদের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান মো. বারেক আলী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাস থেকে টুর্নামেন্ট বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন ক্রীড়া পরিষদের উপদেষ্টা মো. রফিকুল ইসলাম এবং সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মাকসুদ মোহাম্মদ নাসির। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয় সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল বাতেনের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।
প্রধান অতিথি এস. এ. জিন্নাহ কবির বক্তব্যে বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমি যুব সমাজকে আহ্বান জানাই—মাদক ছেড়ে মাঠে আসুন। সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিনি বলেন, “স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা, স্থায়ী খেলার মাঠ নির্মাণ এবং বিনোদনের জন্য পার্ক স্থাপন সহ এলাকার উন্নয়নে আমি সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাব।”
খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী ও রানার-আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। যমুনা নদীর তীরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং খেলাপ্রেমীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন