প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে যখন বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে, তখন মেক্সিকোতে মানবপাচার এবং জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
মেক্সিকোর শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক মিলেনিওর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীর আগমনকে কেন্দ্র করে অপরাধী চক্রগুলো নতুন সুযোগ খুঁজছে অবৈধ আয়ের। বিশেষ করে, মানবপাচার এবং যৌন শোষণভিত্তিক অপরাধগুলোর বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বকাপের অধীনে ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর তিনটি শহরে—মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মন্তেররেইয়ে। অপরাধবিষয়ক গবেষকদের মতে, এসব শহরের যৌন বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট অনেক রুট ও নেটওয়ার্ক বর্তমানে বিভিন্ন কার্টেল ও সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গুয়াদালাহারায় প্রভাবশালী হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি) সক্রিয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মন্তেররেইয়ে নর্থইস্ট কার্টেল ও সিনালোয়া কার্টেলের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাজধানী মেক্সিকো সিটিতেও বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততায় মানবপাচার এবং যৌন শোষণের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে।
মেক্সিকোর আরেক সংবাদমাধ্যম অ্যানিমেল পলিটিকো জানিয়েছে, দেশটির বেশিরভাগ বড় অপরাধী চক্র বর্তমানে জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্য থেকে মুনাফা অর্জন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মানবপাচার এখনকার্টেলগুলোর অন্যতম প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, জোরপূর্বক যৌন শোষণ ও মানবপাচারভিত্তিক বৈশ্বিক অবৈধ অর্থনীতির মূল্য বছরে প্রায় ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের সময় মানবপাচার ও যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই কারণে, বিশ্বকাপ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন