প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাজী একতা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী জাহিদ হাসান অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিকিৎসার সহায়তা চেয়ে পরিবারের আকুতি; বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি
ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন মসজিদের ইমাম ও পবিত্র কোরআনের হাফেজের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ উঠেছে ‘কাজী একতা ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী জাহিদ হাসান অভির বিরুদ্ধে। অসুস্থ হাফেজ জাকির হোসেন বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দরিদ্র পরিবারের এই ধর্মীয় ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পরিবার হিমশিম খাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদানের বিষয়টি সামনে আসার পর অসুস্থ হাফেজের চিকিৎসায় সহায়তার আশ্বাস পূরণ না করার অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও জীবনসংকটে থাকা একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন কেন যথাযথ গুরুত্ব পেল না?
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সমালোচকদের কেউ কেউ কাজী জাহিদ হাসান অভির মতো ব্যক্তিদের ‘বসন্তের কোকিল’ বলে আখ্যায়িত করছেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে কিছু ব্যক্তি এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের জনদরদি হিসেবে তুলে ধরেন।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হাফেজ জাকির, চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাকির হোসেন। তাঁর পিতা জলিল ব্যাপারী। পেশায় তিনি একজন মসজিদের ইমাম এবং পবিত্র কোরআনের হাফেজ। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাজে মানুষের কাছে পরিচিত জাকির হোসেন এখন নিজেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এ অবস্থায় তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের কাছে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অসুস্থ এই হাফেজের চিকিৎসায় সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশায় পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের আশা, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর পাশে দাঁড়াবে।
সহায়তার আশ্বাস দিয়েও বাস্তবায়ন হয়নি—কাজী জাহিদ অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজী একতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী জাহিদ হাসান অভির সঙ্গে অসুস্থ হাফেজ জাকির হোসেনের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার বিষয়ে একাধিকবার কথা হয়। এ সময় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুত অর্থ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের মতে, চিকিৎসার মতো জরুরি বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ার পর পরিবার স্বাভাবিকভাবেই সহযোগিতার প্রত্যাশা করে। কিন্তু সেই সহায়তা বাস্তবায়িত না হলে অসুস্থ ব্যক্তি ও তাঁর স্বজনদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়।
তবে কী পরিমাণ অর্থ সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কখন এবং কীভাবে সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ কাজী জাহিদ হাসান অভির বক্তব্যও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য প্রয়োজন।
পূজামণ্ডপে অনুদান নিয়ে প্রশ্ন, মানবিক দায়িত্ববোধের আলোচনা
সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাজী জাহিদ হাসান অভিকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে আর্থিক অনুদান দিতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন মণ্ডপে অনুদান প্রদানের উদ্যোগ থাকলেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হাফেজ জাকির হোসেনের চিকিৎসায় প্রতিশ্রুত সহায়তা না পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের হতাশ করেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের মতে, সামাজিক বা ধর্মীয় আয়োজনে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি অসুস্থ, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজনেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা উচিত।
তবে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অনুদান দেওয়া এবং একজন অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসায় সহযোগিতা করা—দুটিই স্বতন্ত্র মানবিক উদ্যোগ। কোনো একটি উদ্যোগকে অন্যটির বিরোধী হিসেবে দেখার পরিবর্তে সব ক্ষেত্রেই সহায়তার স্বচ্ছতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনা প্রয়োজন।
স্থানীয় সমালোচকদের মূল বক্তব্য, একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো উচিত, যাতে বিপদগ্রস্ত পরিবার বিকল্প সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে পারে।
নির্বাচন ঘনিয়ে এলে কিছু ব্যক্তির এলাকায় আনাগোনা বেড়ে যায়—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। তাঁদের ভাষ্য, এ সময় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় উৎসব, জনসমাগম ও অনুদান বিতরণের মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
এ ধরনের ব্যক্তিদের উদ্দেশে সমালোচকেরা ‘বসন্তের কোকিল’ উপমাটি ব্যবহার করেন। তাঁদের বক্তব্য, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড যদি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রকৃত মানসিকতা থেকে পরিচালিত হয়, তবে তা শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়েই সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়; বরং বছরের অন্যান্য সময়েও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
কাজী জাহিদ হাসান অভিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয় এলাকার একজন বয়স্ক মানুষ জানান কাজী জাহিদ হাসান অভি একটা বাটপার সে রাজধানীর ঢাকায় বসে অবৈধ ইনকাম করে এখন দেশে আসছি নির্বাচনের সময় জনগণের সেবা করতে আসলে এদের উদ্দেশ্য ভন্ডামি।
জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কাজের বাস্তব ফলাফল, সহায়তা পাওয়ার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তথ্যের ভিত্তিতে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাখ্যা ও যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
বাংলাদেশের সমাজে ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং মানবিক সহায়তার মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অনুদান দেওয়া যেমন সামাজিক সম্প্রীতির প্রকাশ হতে পারে, তেমনি অসুস্থ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা করাও মানবিক দায়িত্বের অংশ।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচিতি কিংবা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে মানুষের প্রয়োজনকে আলাদা করে দেখা উচিত নয়। যে ব্যক্তি চিকিৎসার অভাবে সংকটে পড়েছেন, তাঁর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি।
হাফেজ জাকির হোসেনের চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদনও এ মানবিক বিবেচনা থেকেই সামনে এসেছে। তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যয় বহনে সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে যাঁরা আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন, তাঁরা যেন নিজেদের সামর্থ্য ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দায়িত্বশীলভাবে প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ
কাজী একতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর ০১৭৪৪৯৭০২৯৪-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আশ্বাসসংক্রান্ত কোনো নথি, বার্তা বা অন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
চিকিৎসায় সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে জরুরি
ক্যান্সারে আক্রান্ত হাফেজ জাকির হোসেনের চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করাই এখন পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে পরিবারটি উপকৃত হতে পারে।
একই সঙ্গে কাজী জাহিদ হাসান অভির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জনগণের সামবে এ-সব ভন্ডদের মুখোশ খুলে দেয়া উচিত।
মাছুদুর রহমান আসলাম
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, তালাশ বিডি
ফোন নম্বর : নগদ এন্ড বিকাশ ০১৭১১৪৩৩৫৪৯
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন