প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে জোরদার করার প্রক্রিয়ায় চীনা প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করছে। রাজধানী রিয়াদের পশ্চিমে অবস্থিত আল-দুওয়াদিমি ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্সের স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন স্থাপনা এবং উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষণ দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, রিয়াদ কি হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চীনা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে আরও সক্রিয় হচ্ছে?
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তোলা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামোর সম্প্রসারণের ইঙ্গিত পেয়েছেন। তবে, ঠিক কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হচ্ছে এবং কবে থেকে উৎপাদন শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
উৎপাদনকেন্দ্রে বড় পরিসরে সম্প্রসারণ
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এফপিআরআই) দুই গবেষক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে আল-দুওয়াদিমি কমপ্লেক্সে নতুন একটি স্থাপনা শনাক্ত করেছেন। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের কঠিন জ্বালানি তৈরির উপযোগী কাস্টিং পিট বা ঢালাই গর্ত থাকতে পারে। গবেষকদের ধারণা, স্থাপনাটি আগের একই ধরনের ভবনের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ বড়।
আরেকটি নতুন ভবন জ্বালানির উপাদান কিংবা তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে। গবেষকদের মতে, এসব অবকাঠামো সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।
গবেষকদের মতে, সম্প্রতি ইয়েমেনে পাওয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষকে চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি ডিএফ-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ধারণা, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি আরব থেকে ছোড়া হয়েছে। তবে এর উৎস ও ব্যবহারকারী সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
ডিএফ-১৫ একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর উন্নত সংস্করণ ডিএফ-১৫এ-এর পাল্লা সর্বোচ্চ প্রায় ৯০০ কিলোমিটার হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনের মারিব অঞ্চলে পাওয়া ধ্বংসাবশেষে ডিএফ-১৫এ লেখা দেখা যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে চীনা ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, সৌদি আরব বর্তমানে ডিএফ-১৫ উৎপাদন করতে সক্ষম। পাশাপাশি, আল-দুওয়াদিমি কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য আরও দূরপাল্লার ডিএফ-২১ বা একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলা হতে পারে। তবে এসব অনুমান এখনো নিশ্চিত নয়।
কেন চীনের দিকে ঝুঁকছে সৌদি আরব?
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহে বিধিনিষেধ থাকায় সৌদি আরব চীনের প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ১৯৮৭ সালে চীনের কাছ থেকে প্রায় ৪০টি তরল জ্বালানিচালিত ডিএফ-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছিল সৌদি আরব। ২০১৪ সালে দেশটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে।
নতুন এবং অধিক সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে এবং ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঝুঁকি না নিয়েও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার বিকল্প তৈরি হবে।
তবে, এই সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরো বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি নিয়েও ওয়াশিংটনে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকেন্দ্র সম্প্রসারণ নিয়ে দেশটির সরকার, চীনা দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রয়টার্স কোনো মন্তব্য পায়নি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন