প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক লড়াই এবং এবারের বিশ্বকাপে মিশরের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য পুরস্কার হিসেবে দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফারাওদের ডাগআউটে অভিজ্ঞ এই কোচকে দেখা যাবে।
বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিশরের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইএফএ সভাপতি হ্যানি আবু রিদা এ ব্যাপারে জানান, অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটিকে সানন্দে অনুমোদন দিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নতুন চুক্তির আওতায় আগামী চার বছর মিশর জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন হোসাম হাসান। এবারের বিশ্বকাপে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই তিনি দলটির কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আগের চুক্তির মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে পুনরায় চুক্তি নবায়ন করেনি ফেডারেশন।
২০১৯ সালে মিশরের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসান দলের পারফরম্যান্সে বিশাল পরিবর্তন আনেন। তার অধীনে মিশর ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়। এবারের বিশ্বকাপে এসে হোসাম হাসানের নেতৃত্বে ফারাওরা আরও বড় সাফল্যের দেখা পায়। তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার জয় অর্জন করে এবং প্রথমবার নকআউট পর্বে যাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।
গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মিশর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পায়। এরপর বেলজিয়াম ও ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অসাধারণ লড়াই করে ড্র করে তারা। এর ফলে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারের মাধ্যমে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নকে উজ্জ্বল করে তোলে মিশর। এরপর শেষ ষোলোর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হোসাম হাসানের কৌশল সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
মিশরের সফলতার পেছনে হোসাম হাসানের বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দলের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে মিশরকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে আসেন। কোচ হওয়ার পূর্বে হোসাম হাসান ছিলেন মিশরীয় ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ১৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৯ গোল করেন। বর্তমানে তিনি মিশরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে ধরে রেখেছেন। খেলোয়াড় ও কোচ উভয় ভূমিকায় মিশরের ফুটবলে অবদান রাখা হোসাম হাসানকে সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন