প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজাবাড়ী-দমদমা পর্যন্ত ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই হঠাৎ করে ১ কিলোমিটার অংশ ধসে পড়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলোও ভেঙে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের ফল।
সরেজমিনে যাতায়াতে সুফল আনতে ২০২১ সালে রাজাবাড়ী থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। নির্মাণ কাজের অনুমতি পায় মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বেড়ে ২০২৬ সালে শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের সূতি নদী এলাকায় চিনাশুকানিয়া গ্রামের ১ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যে ধ্বসে পড়েছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নদীর তীরে বসানো ব্লক ইতিমধ্যে ভেঙে বিলীনের পথে রয়েছে।
এমন অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাঙা অংশগুলোতে জোড়াতালি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। কয়েকটি পয়েন্টে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের ওই অংশটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মহসিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, "মাত্র ৩ মাস হয়েছে সড়কটির কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই ১ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ অংশ ধ্বসে নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে এখানে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঠিকাদার এখানে বস্তা ফেলছে। এতে সড়ক রক্ষা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।"
দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, "সড়ক নির্মাণের পরপরই হঠাৎ করে সড়কটি দেবে গেছে। দিন দিন আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিরাট অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই সড়কটি নির্মাণের আগে নদীর তীর বালু মাটি দিয়ে রাতারাতি ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছিল। মাটি বালু ঠিকমতো রোলিং না করার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। এখানে কর্তৃপক্ষ সঠিক তদারকি করেনি।"
গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, "কাজের শুরুতে আমরা প্রতিবাদ করি। ব্লকগুলো ভিটবালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছিল। যার কারণে সব ব্লকের জোড়া খুলে যাচ্ছে। ব্লকগুলো নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে সেখানকার ঠিকাদারের লোকজন ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। যшен অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস করেননি।"
অপর দমদমা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন আজাদ বলেন, "এইতো কয়েক মাস হলো সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলো। পাঁচ বছর পর কাজ শেষ হলেও হঠাৎ করে দেবে যাচ্ছে সড়কটি। ভালো কাজ হলে এত দ্রুত সড়কটি দেবে যাওয়ার কথা নয়। সড়কটিতে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই।"
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম জানিয়েছেন, "নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল উত্তলন করলেও জামানত দুই বছর পর্যন্ত জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে, ততবার ঠিক করে দেবো। তাতে আপনাদের সমস্যা কোথায়?"
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ জানিয়েছেন, "সড়কের একটি অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে লোক পাঠিয়ে পরিদর্শন করিয়েছি। বর্ষাকালে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করলেও তাদের জামানতের ১০ ভাগ টাকা রয়েছে। সেই টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি। সেই টাকায় সড়ক মেরামত করা হবে। নিম্নমানের কাজের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন