প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সমালোচনার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফোর্ট হুডে গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না। তবে নিহত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়েরা চাইলে সশরীর উপস্থিত থেকে তা দেখতে পারবেন। এ তথ্য রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, “আমার মনে হয়, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা অন্যদের এ ধরনের অপরাধ করা থেকে বিরত রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারত। বিশ্ব দেখতে পেত, সন্ত্রাসী ও নিদাল হাসানের মতো অপরাধীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে আচরণ করে।”
তবে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, অনেক ভালো ও বিবেকবান মানুষ সরাসরি সম্প্রচার বা অন্য কোনো মাধ্যমে তার মৃত্যুর দৃশ্য দেখতে চান না। তাই এই ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।
তিনি আরো বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। নিহত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়েরা চাইলে সশরীর তা দেখতে পারবেন। ট্রাম্প বলেন, তারা ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করার অধিকার রাখেন।
পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে এটি সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের দলের রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন নেতাও সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও রয়েছেন। ধর্মীয় নেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “আমি নিশ্চিত করে বলছি, সাধারণ মানুষ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা সরাসরি দেখতে পারবেন। মানুষের বোঝা উচিত, এমন কর্মকাণ্ডের (তার হত্যাকাণ্ড) পরিণাম কত ভয়ানক।”
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ‘রিয়াল আমেরিকাস ভয়েস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, একদল সেনা গুলি করে (ফায়ারিং স্কোয়াডে) নিদালের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন।
সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপেও দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিরোধী।
নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ–বিশেষজ্ঞ। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে সামরিক আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন