প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত অর্থপূর্ণ চার দিনের সফর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নিউইয়র্কে মাত্র চার কর্মদিবসের এই সফরে ৩০টিরও বেশি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ও অফিসিয়াল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে তিনি বহুপক্ষীয় সম্পর্কের সংস্কার, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং মানবাধিকারভিত্তিক বিশ্ব গড়ার প্রতিশ্রুতি বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।
ওয়াল স্ট্রিটে নতুন বার্তা : ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত’
আন্তর্জাতিক মূলধন ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সফরকালে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক ‘জেপি মরগান চেস’-এর সহযোগিতায় আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতি ও স্বচ্ছ বিনিয়োগ পরিবেশের রূপরেখা তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগের (ব্যবসার) জন্য প্রস্তুত’ বার্তা পৌঁছে দেন।
এই সফরে বোয়িংয়ের মতো প্রধান মার্কিন অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিমান ক্রয়ের বাণিজ্যিক আলোচনা বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দুটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশের অ্যারোস্পেস ও পরিবহন খাতে বড় অঙ্কের বৈশ্বিক বাণিজ্যের সামর্থ্য রয়েছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সাথে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক দূরদর্শিতাকে বিনিয়োগের ইতিবাচক ক্ষেত্র হিসেবে দেখে থাকেন।
একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গের সঙ্গে বৈঠক দেশে কৌশলগত আর্থিক সংস্কার, বাজেটারি সহায়তা ও বৈদেশিক বাণিজ্যিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া প্রযুক্তি ও জনস্বাস্থ্য খাতে উদ্ভাবনী অর্থায়নের জন্য বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি অর্জিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক
মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নেতৃত্ব- কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালিদ, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রবাসী কর্মীদের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর পাশাপাশি তুরস্ক, ইরান এবং প্রতিবেশী এশীয় ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
সাধারণ অধিবেশনে ‘৩-আর কৌশল’ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া দূরদর্শী ভাষণে দেশ পুনর্গঠন ও টেকসই অগ্রগতির জন্য ‘৩-আর কৌশল’ (পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণ) ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈশ্বিক ডিজিটাল বিভাজন নিরসন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের একটি বিশ্বস্ত দলিল হিসেবে এই ভাষণ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের নজর কাড়ে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিল ছাড় এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট ও মানবাধিকার সুরক্ষা
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এবং শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বারহাম সালিহের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের ওপর পুনরায় তীব্র কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এই সফরের অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
কূটনৈতিক দক্ষতার নেপথ্যে ‘টিম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমানের এই অর্থনৈতিক কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার সাত মাস বয়সী সরকারের ‘টিম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’।
এই টিমের সমন্বয়ক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মি. হুমায়ূন কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শান্তি, অহিংসা, মানবাধিকার ও পরিবেশগত ভারসাম্যের মূল চেতনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের যে সময়োপযোগী বার্তা এবং অর্থনৈতিক-মানবিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তা বিশ্বমঞ্চে ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’
সূত্র : প্রেসেনজা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন