প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।
এটি ওয়াশিংটন ডিসিতে টানা তিন দিন ধরে চলছিল, যেখানে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন এরপরই এ পদক্ষেপ নেয়।
শনিবার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে দায়ী করে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই খবর উঠে এসেছে।
রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা শেষ করার জন্য ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। সেই সময়সীমা অতিক্রমের পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন কাঠের আইস হকি স্টিকের মতো কানাডীয় পণ্যে এসব শুল্ক আরোপ করেছে, যা খুব একটা ব্যবহৃত হয় না। ফলে এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার দেশটিতে বড় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই। কেননা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির মধ্যে এসব পণ্যের অংশ মাত্র ৫ শতাংশের কিছু বেশি।
তবে নতুন শুল্ক আরোপের ফলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে যে উত্তেজনা বেড়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে চলমান বিশাল আলোচনা আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
কার্নি ঘোষণা করেছেন, তিনি বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে দিয়েছেন এবং কানাডা নতুন শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় ‘ডলারের বদলে ডলারের’ নীতি গ্রহণ করবে।
এক বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং কানাডার আলোচকদের অটোয়ায় ফিরে আসতে বলেছি।”
কার্নি আরও জানিয়েছেন, “আলোচকরা সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কানাডার স্বার্থ রক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তবে শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তের পরিবর্তন ছিল অন্যায্য, অবাণিজ্যিক এবং এটি যে কোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
গত জুলাই থেকে দুই দেশের আলোচকরা নিবিড় আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ১৯ অগাস্ট নাগাদ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার) মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সাময়িকভাবে ওই শুল্ক স্থগিত করেছিলেন এবং বলেছিলেন, দুই দেশ একটি বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা উভয়ের জন্য ‘খুব ভালো’ হবে।
কিন্তু চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে কার্নি বলেছিলেন, “আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও তা আমাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।”
কার্নির ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে জানান, “আজ রাতে কানাডা এ সপ্তাহের শুরুতে সম্মত হওয়া শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য চুক্তি শেষ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের বাজারে রপ্তানি করা বড় দেশগুলোর মধ্যে কানাডাকে সবচেয়ে সুবিধাজনক শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল।
“কিন্তু কানাডার নতুন কিছু দাবি এবং আগে দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার কারণে গত কয়েক দিনে সতর্কতার সঙ্গে যে ভারসাম্য তৈরি হয়েছিল, তা ভেস্তে গেছে।”
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সপ্তাহের শুরুর তুলনায় দুই দেশের অবস্থানে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কর্মকর্তারা আশাবাদী ছিলেন যে, একটি লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে।
খবরে বলা হয়েছিল, আলোচকরা এমন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন যাতে কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ এবং কানাডীয় গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসবে।
এর বিনিময়ে কার্নি কানাডার প্রদেশগুলোকে দোকানের তাকগুলোতে আবার যুক্তরাষ্ট্রের মদ রাখার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে দুই প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সময় ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী ব্যাপক শুল্ক আরোপের কর্মসূচি শুরু করেন, যা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দেয়।
এখন আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কারণে ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের আওতায় কানাডার ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন।
ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর এসব শুল্ক কার্যকর হবে। পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই যে শুল্ক আরোপ করেছে, সেগুলোও বহাল থাকবে।
গত বছর ট্রাম্পের শুল্কের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
কার্নি হলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি বড় অর্থনীতির দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ছিলেন। গত বছর তিনি ট্রাম্পকে মোকাবেলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি এখনও অনেক জনপ্রিয়। কানাডার মতামত জরিপগুলোতে দেখা গেছে যে, অধিকাংশ কানাডীয় ট্রাম্পকে কোনো ছাড় দেওয়ার বিরোধী।
কানাডার প্রতিষ্ঠান অ্যাবাকাস ডেটার সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৬ শতাংশ কানাডীয় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য সমর্থন দেন। অন্যদিকে, আরও ৩০ শতাংশ চান, কার্নি সরকার আলোচনা চালিয়ে যাক।
যদি পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘পাল্টা শুল্ক সহ্য করবে না।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন