প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, "কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এ আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।"
নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন যে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব হলো একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা তৈরি করা।
সোমবার রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক, হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
মাসুদ খান ফ্লোর প্রাইসের কারণে মরগ্যান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) বাংলাদেশের সূচক স্থগিত করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, "আমি দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছি।"
তিনি জানান, এর ফলে মরগ্যান স্ট্যানলি আগামী নভেম্বর থেকে আবার এটিকে চালু করবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও জানান, বিএসইসি ও ডিএসইর সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা এআইভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাসুদ খান বলেন, "প্রত্যেকটা বন্ড শেয়ারবাজারের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হতেই হবে এবং আগামী এক বছরে মেইন বোর্ডে অনেক বন্ড তালিকাভুক্ত হবে।"
তিনি ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন নিয়ে কাজ প্রায় শেষ হয়েছে জানিয়ে বলেন, "কমিশনের বৈঠকে অনুমোদনের পর এটি জনমত গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।"
মাসুদ খান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে।
তিনি আরো বলেন, "একটি কোম্পানি চাইলে তার নির্দিষ্ট অংশ আইপিওর মাধ্যমে এবং আরেকটি অংশ ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজারে ছাড়তে পারবে।"
এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বোর্ডের সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান তিনি।
সিকিউরিটিজ অ্যাক্টের ২০এ ধারার উল্লেখ করে মাসুদ খান বলেন, "জনস্বার্থে কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে।"
তিনি জানান, এ ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ কী তা নির্ধারণ করে একটি বিধি প্রণয়ন করা হবে।
স্ক্রিপ্ট নেটিং ও টি+১ চালুর কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, "ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল এবং বিদেশি কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।"
মাসুদ খান বলেন, "বাই দ্য অ্যান্ড অফ দ্য ইয়ার আমাদের টি+১ এ যাওয়ার একটা চেষ্টা আমাদের থাকবে।"
চট্টগ্রাম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, শেয়াবাজারে নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ছিল উচ্চ লিস্টিং ফি।
তিনি জানান, নতুন ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে ডিএসই বোর্ড সম্প্রতি এই ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকায় বেঁধে দিয়েছে।
এছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যারা আইপিও বা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করবে, তারা এই নির্ধারিত ফি-র ওপর আরো অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার বলেন, ডিএসই ও বিএসইসি অত্যন্ত সমন্বিতভাবে বাজারের উন্নয়ন ও গভর্নেন্স জোরদারে কাজ করছে।
তিনি জানান, বাজারে ভালো আইপিও আনা, ফ্রি মার্জিন, সিসি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং আগামী ৫ বছরের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় কাজ চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন