প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহের শৈলকুপার ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদের দান-অনুদানের ৩০ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মসজিদের মোতাওয়াল্লি মীর শামসুজ্জামান পান্নার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদে বিভিন্ন খাত থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।
এ মসজিদটি বাদশা হোসেন শাহ ওয়াকফ স্টেটের অধীনে পরিচালিত হয়, যেখানে প্রতিদিন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দান-অনুদান প্রদান করেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকেও অনুদান আসে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা হয় না।
অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মসজিদের মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব পান মীর শামসুজ্জামান পান্না। গত দুই বছরের বেশি সময়ের মধ্যে দান-অনুদানসহ বিভিন্ন খাত থেকে মোট ৬১ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থ খাদেমের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচে ব্যয় করা হলেও বাকি অর্ধেক টাকা মোতাওয়াল্লির কাছে জমা দেয়া হয়। তবে জমা হওয়া ওই অর্থের সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব তিনি দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এমনকি মসজিদের ইমামের কাছ থেকেও মাসিক চাঁদা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় মুসল্লি স্কুলশিক্ষক জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেন, ‘মসজিদের প্রতিদিনের আয়ের অর্ধেক টাকা মোতাওয়াল্লির কাছে জমা হয়। সেই টাকা ব্যাংকে রাখার কথা থাকলেও তিনি কোনো ব্যাংকে রাখেননি এবং কোনো হিসাবও দেননি। সম্প্রতি মসজিদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রেও তিনি কোনো অর্থ দেননি। গাছ বিক্রি ও স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা তুলে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।’
হোসেন আলী নামে আরেক মুসল্লি জানান, ‘দুই বছর ধরে মসজিদে কোনো সভা বা বৈঠক করা হয় না। টাকা কোথায় কীভাবে খরচ হয়, তারও কোনো হিসাব নেই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক মুসল্লি জানান, দুই বছরের বেশি সময়ে ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মোতাওয়াল্লির কাছে জমা দেয়া হয়েছে। সেই টাকার বড় একটি অংশ তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক বলেন, ‘মসজিদের টাকা নয়ছয় করা মোটেও কাম্য নয়। গত দুই বছরে সংগ্রহ করা অর্থ কোথায় কীভাবে খরচ হলো, তা তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে মোতাওয়াল্লি মীর শামসুজ্জামান পান্না বলেন, ‘এত টাকা কোথায়? দুই বা তিন লাখ টাকা থাকতে পারে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ‘মসজিদের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন