প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যা তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার অনুরোধও করেন।
মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে রাষ্ট্রপতি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষীয় আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ, চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত।
রাষ্ট্রপতি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরো সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি চীনের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরো সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য।
রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, "চীনের উদ্যোগ এ সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সহায়ক হবে।" বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল রক্তের ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তার নিজের, বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।
রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন