প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করার আশঙ্কায় আছে এমন ইসরায়েলি তিন ভাই-বোনকে সুরক্ষা দেওয়ার পথ উন্মোচন করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রশাসনিক পর্যালোচনা ট্রাইব্যুনাল (এআরটি) রায় দিয়েছে, তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা প্রত্যাখ্যান করার কারণে যদি তারা ইসরায়েলে ফিরে যায়, তাহলে তারা কারাদণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষা ভিসার আবেদন করা এক পরিবারের তিন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিষয়টি এই রায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তাদের বক্তব্য গ্রহণ করে বলেছে, গাজার চলমান যুদ্ধে অংশগ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে—এই বিশ্বাস থেকেই তারা সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন। এই অবস্থানকে রাজনৈতিক বিশ্বাস হিসেবে ট্রাইব্যুনাল স্বীকৃতি দিয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, সামরিক সেবা প্রত্যাখ্যানের ফলে তাদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ট্রাইব্যুনালের মতে, এই শাস্তির ঝুঁকি তাদের জন্য গুরুতর ক্ষতির বাস্তব আশঙ্কা সৃষ্টি করে এবং যেহেতু এই ঝুঁকি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসতে পারে, তাই তারা নিজ দেশে কার্যকর সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
ট্রাইব্যুনাল আরও উল্লেখ করেছে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট করেছে, এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ তাদের দায়িত্ব নয় এবং আইসিসির মামলায় চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
প্রায় এক দশক আগে পরিবারটি বাবার কর্মভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল। আগামী ২০২৪ সালে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে তারা সুরক্ষা ভিসার আবেদন করেন, তবে প্রথমে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে আপিলের পর ট্রাইব্যুনাল মনে করে, ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হলে তিন ভাই-বোন নির্যাতনের বাস্তব ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই পুরো পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন