০৭:৩৫ পি.এম
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রীর (১২) নবজাতক সন্তানের মৃত্যু ঘটেছে। রবিবার (২১ জুন) দিবাগত রাতে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকটি মারা যায়। এই পুত্রসন্তানটি তিন দিন বয়সী ছিল এবং রাতে পৌনে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (২২ জুন) মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ নবজাতকের মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানায়, নবজাতকের প্রকৃত পিতৃপরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ওই কিশোরী শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে দাদির সঙ্গে একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। তার বাবা-মা গাজীপুরে একটি রিকশা চালিয়ে সংসার গড়তেন। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানান, প্রায় নয় মাস আগে একদিন সন্ধ্যায় কোচিং শেষে তার মেয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে প্রতিবেশী সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মফিজুল ওরফে সোহেল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটি লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে তারা তখন কাউকে জানায়নি।
আরও পড়ুন: বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে বাতিল হবে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন
ঘটনার চার মাস পরে, কিশোরীর দাদি অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হয়। এর মধ্যেই তার বাবা-মা গাজীপুর থেকে বাসা বদল করে মোহাম্মদপুর এলাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে কিশোরী আর গ্রামে ফিরতে রাজি হয়নি। পরে দাদিকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে কিশোরীকে মোহাম্মদপুরের বাসায় রেখে পড়াশোনা করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে আরো জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ জুন) হঠাৎ ওই কিশোরী পেটে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানায়। চিকিৎসক কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় সে বাথরুমে প্রবেশ করে। দীর্ঘক্ষণ পরে সে বাথরুম থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরে বাড়ির ব্যবস্থাপক বাথরুমে একটি নবজাতক পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন নারীর সহায়তায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করে ওই দিনই ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে শিশুটি মারা যায়।
কিশোরীর বাবা বলেন, ‘নবজাতকটি কোথা থেকে এলো, তা খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি সেটি আমার মেয়েরই গর্ভের সন্তান। পরে তাকে অভয় দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বিস্তারিত জানায়। আমরা মান-সম্মানের দিকে তাকিয়ে বিষয়টি আর কাউকে জানাতে চাইনি। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কোনও মামলাও করতে চাইনি।’
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. সেলিম আজ বিকেলে নবজাতকের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। মর্গ সূত্রে জানা যায়, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নবজাতকের বাবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি, তদন্ত চলছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন