প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) নির্বাচনে প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি) প্রার্থীদের বিধিবিধান মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। কমিশনের এই অবস্থান নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকার রমনাস্থ আইইবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জরুরি মতবিনিময় সভায় নির্বাচনি বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সেলিম ভূঁইয়া, পিইঞ্জ. প্রার্থীদের গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
আইইবির গঠনতন্ত্রের ৩০.০৭ ধারা অনুযায়ী প্যানেল শিট, লিফলেট বা কার্ডের মাধ্যমে অন্য প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালানোর ওপর বিধিনিষেধের বিষয়টি নির্বাচনি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে প্রকৌশলীরা তাদের মতামত তুলে ধরে বক্তব্য দেন। গঠনতন্ত্রে নিষেধাজ্ঞা, মুখে আচরণবিধির বুলি, আর মাঠে প্যানেল প্রচারণার অভিযোগ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা আইইবি ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে দ্বিমুখী চিত্র তুলে ধরছেন।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, আইইবির গঠনতন্ত্র কি সবার জন্য প্রযোজ্য, নাকি কিছু লোকের জন্য নিয়ম ভাঙার অলিখিত লাইসেন্স রয়েছে? নির্বাচন কমিশন যদি বিধি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এত আয়োজন, সভা আর সতর্কবার্তার অর্থ কী? গঠনতন্ত্রে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা প্রকাশ্যে চলছে।
আইইবির অডিটরিয়াম ও কনফারেন্স সেন্টারে প্যানেল ঘোষণার অভিযোগও উঠেছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, বিধি যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে অভিযোগ ওঠার পর কমিশনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়? গঠনতন্ত্র কি শুধুমাত্র দেয়ালে টাঙানোর জন্য? এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি) প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা নিষিদ্ধের বিষয়টি সামনে এনে প্রার্থীদের বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
আইইবি’র আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে পেশাজীবী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। বিএনপি সমর্থিত পেশাজীবী প্যানেল গঠনে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং স্বৈরাচারী ও সুবিধাবাদী বলয়ের পুনর্বাসনের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন সংগঠনের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
আইইবির নির্বাচনে প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। এই পরিস্থিতিতে গঠনতন্ত্র ও বাই-লজের বিধান অনুসরণ করে নির্বাচন পরিচালনা করা হলে সব প্রার্থীর জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নির্বাচনী বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কমিশনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইইবির মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে গঠনতন্ত্রের বিধান সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। এখন দেখার বিষয়, প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা বন্ধে কমিশনের অবস্থান নির্বাচনী মাঠে কতটা কার্যকর হয় এবং বিধিবিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় কি না।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, আইইবি নির্বাচনে অ্যাব সমর্থিত অফিস বিয়ারার ও কেন্দ্র ভিত্তিক প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজপথের ত্যাগী ও নির্যাতিত প্রকৌশলীদের চূড়ান্ত অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং বিগত সরকারের সুবিধাভোগী বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীকে অ্যাব সমর্থিত মূল প্যানেলে স্থান দেওয়া হয়েছে। এটি তৃণমূলের ত্যাগী প্রকৌশলী ও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
অ্যাবের আহ্বায়ক শাহরিন ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে একক ক্ষমতাবলে প্যানেল চূড়ান্ত করার অভিযোগ তুলছেন বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। একাধিক প্রকৌশলী নেতা জানান, সিনিয়র নেতা ও স্থায়ী ফোরামগুলোর মতামতকে তোয়াক্কা না করে নিজস্ব পছন্দ ও বলয়ভিত্তিক প্রার্থী চয়ন করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে সিদ্ধান্তের বাইরে রেখে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন