ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৯ বছর পরও অমীমাংসিত যবিপ্রবির হল ডাকাতি, আতঙ্কের রাতের প্রশ্ন রয়ে গেছে


৯ বছর পরও অমীমাংসিত যবিপ্রবির হল ডাকাতি, আতঙ্কের রাতের প্রশ্ন রয়ে গেছে

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মসিয়ূর রহমান (শ.ম.র) হলের ঘটনা ঘটেছিল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে। চারপাশে ছিল নিস্তব্ধতা। শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কেউ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিলেন, কেউ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, আবার কেউ ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিশ্চিন্ত ঘুমের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবেশ পাল্টে যায়। একের পর এক বোমা ও ককটেলের বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি, দরজা-জানালা ভাঙার আওয়াজ এবং প্রাণ বাঁচানোর আকুতি—সব মিলিয়ে রাতটি ভয়াবহ আতঙ্কে পরিণত হয়।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর। আজ সেই ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হলো। সময়ের সাথে সাথে ক্যাম্পাসে নতুন প্রজন্ম এসেছে, প্রশাসন পরিবর্তিত হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মুখও বদলেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ‘হল ডাকাতি’ নামে পরিচিত সেই রাতের ভয়াবহতা আজও অনেকের স্মৃতিতে দগদগে ক্ষত হয়ে রয়েছে। যে হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসনের কথা বলা হয়, সেদিন সেখানে নিজেদের জীবন বাঁচাতে বিছানার নিচে, বন্ধ কক্ষের অন্ধকারে কিংবা অন্য ভবনের আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল তাদের। কেউ প্রাণভয়ে হল থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন, কেউ পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন শিক্ষক ডরমেটরিতে। আবার কেউ শিকার হয়েছিলেন শারীরিক নির্যাতনের।

যেভাবে শুরু হয়েছিল সেই বিভীষিকা

আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই কলঙ্কজনক ঘটনার পেছনে ছিল তৎকালীন যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা, সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানের রাজনৈতিক বলয়, গ্রুপ পরিবর্তন এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিটির শুরুতে সুব্রত বিশ্বাস ও শামীম হাসান দুজনই যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাইফুর রহমানের অনুসারী ছিলেন। এমনকি ২০১৪ সালে যবিপ্রবি শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে দুজনকে একসাথে কারাবরণও করতে হয়।

তবে ২০১৭ সালের শুরুতে শামীম হাসান কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক বলয় পরিবর্তন করে তৎকালীন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের অনুসারী হন বলে জানা যায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দূরত্ব বাড়তে থাকে। ওই বছরের মে মাসে সুব্রত বিশ্বাসের নেতৃত্বে শামীম গ্রুপকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা হয় বলে জানা যায়।

দুই পক্ষের এই বিরোধের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি টেন্ডারের অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারার বিষয়টিও উঠে আসে। সুব্রত বিশ্বাসের এক বিশ্বস্ত অনুসারীর সূত্রে এমন অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা বুলু, দোয়া চাইলেন পরিবার

এর কয়েক মাস পর সেই বিরোধের ভয়াবহ পরিণতি প্রত্যক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয়। ৫ অক্টোবর রাতে শামীম হাসান ও তার অনুসারীদের নেতৃত্বে বহিরাগতদের নিয়ে হলে হামলা, ভাঙচুর, মারধর এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে রাতটি পরিচিতি পায় ‘হল ডাকাতি’ নামে।

রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ভোর ৩টা: কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডব

তৎকালীন প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তাকর্মীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়ায় তিন থেকে চারটি কালো মাইক্রোবাস। গাড়ি থেকে নেমে আসে মুখোশধারী একদল ব্যক্তি। প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনরত দুই আনসার সদস্যকে মারধর করে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় আতঙ্কের সেই রাত।

কিছুক্ষণের মধ্যেই বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে শহীদ মসিয়ূর রহমান হল। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন বহিরাগত ব্যক্তি মুখে মাস্ক ও কালো কাপড় বেঁধে হলে প্রবেশ করেন। তাদের অনেকের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র। হলে প্রবেশের পর কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয় বলে তৎকালীন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা নিয়ে জামায়াত-শিবির-এনসিপির রাজনীতি: ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির উদ্দীন নাছির

এরপর শুরু হয় কক্ষ থেকে কক্ষে তাণ্ডব। ভাঙা হয় দরজা ও লকার। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ ওঠে। বাধা দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। কেউ আহত হয়ে মেঝেতে পড়ে থাকেন, কেউ আতঙ্কে কক্ষ ছেড়ে পালিয়ে যান। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটিতে মুহূর্তেই বদলে যায় পুরো হলের পরিবেশ।

সেদিনের হামলায় তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাসসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

বিছানার নিচে লুকিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা

তৎকালীন সেই রাতের ভয়াবহতা স্মৃতিচারণ করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ ফিরোজ তখন বলেছিলেন, গভীর রাতে তিনি ও তার রুমমেট হিমু হঠাৎ বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপর হলে শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি ও আতঙ্ক। পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে তারা নিচতলার ১২২ নম্বর কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে ভয়ে বিছানার নিচে শুয়ে থাকেন দুজন।

আরও পড়ুন: টেকনাফে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্র সিফাত উদ্ধার, দুই অপহরণকারী গ্রেফতার

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বাইরে এসে তারা জানতে পারেন, হামলাকারীরা বিভিন্ন কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। নিজেদের কক্ষে ফিরে গিয়ে দেখেন, লকার ভেঙে দুটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ফিরোজ বলেন, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন চাইলেও আবেদন করার পরও তার মতো অনেক শিক্ষার্থী কোনো সহযোগিতা পাননি।

চতুর্থ তলার আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা আরও ভয়াবহ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয়। তাকে এবং তার কক্ষে থাকা এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রাণ বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থী লুঙ্গি পরে খালি গায়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে নিচে নেমেছিলেন। কেউ কেউ হল ছেড়ে পালিয়ে শিক্ষক ডরমেটরিতে আশ্রয় নেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রক্টরের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা চেয়েও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হলেও তারা সেই সহায়তা পাননি।

আরও পড়ুন: শজিমেক হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে এসি বিস্ফোরণ, হতাহতের খবর নেই

এমনকি ভুক্তভোগীদের জন্য ডাইনিংয়ে এক মাসের বিনা মূল্যে খাবারের বরাদ্দের অর্থও পরবর্তী ছাত্রলীগ সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ভাগ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ওই শিক্ষার্থী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন সময়ে সুব্রত বিশ্বাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাগো নিউজের সমসাময়িক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ৩০ লাখ টাকার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, আইফোন ও হাতঘড়ি, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ঘটনাটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।

লোহার পাইপের আঘাতে ভেঙেছিল পায়ের হাড়

সেই রাতের হামলা শুধু সম্পদ লুট বা ভাঙচুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বহু শিক্ষার্থী। তাদের একজন এফএমবি বিভাগের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে লোহার পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে পেটান। এতে তার পায়ের হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে যায়।

আরও পড়ুন: সরকারি হাসপাতালে রোগীদের দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ২৫০ টাকা

আহত অবস্থায় চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলেও প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। পরে তার মা একাধিকবার প্রক্টর ও প্রভোস্ট অফিসে যোগাযোগ করে আবেদন করলে যৎসামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আসা একজন শিক্ষার্থীকে যখন নিজের ক্যাম্পাসেই লোহার পাইপের আঘাতে পায়ের হাড় ভাঙার যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাতে হয়, তখন সেই আঘাত কেবল শরীরে সীমাবদ্ধ থাকে না। নিরাপত্তা, আস্থা ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়েও তৈরি হয় গভীর প্রশ্ন।

৯০-৯৫ জনের সহায়তার দাবি, ক্ষতিপূরণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য

ঘটনার পর তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ইকবাল কবির জাহিদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আনুমানিক ৯০ থেকে ৯৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। মেডিকেল সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল।

তবে তৎকালীন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, আবেদন করেও তারা প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি। কেউ কোনো সহায়তাই পাননি, আবার কেউ পেয়েছেন যৎসামান্য অর্থ। ফলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশাসনিক দাবি এবং বাস্তবে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তির মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এক মাস শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছিল। তবে মোট কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব মনে নেই। প্রভোস্ট ও প্রক্টর অফিসে এ-সংক্রান্ত হিসাব ও তালিকা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন, মামলা এবং বিচারহীনতার দীর্ঘ প্রশ্ন

সমসাময়িক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু মামলা করেই থেমে থাকেনি; অভ্যন্তরীণ তদন্তের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রক্রিয়াও বাধার মুখে পড়ে। ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের পদত্যাগের কারণে কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুনর্গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আমিনকে। কমিটিতে যশোর জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও রিজেন্ট বোর্ডের প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছিল।

এই ঘটনায় আবাসিক হলে হামলা ও ডাকাতির অভিযোগে সাত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তাদের এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার রাতে আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর কয়েকজন শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার সামনে গিয়ে দেখেন, পুলিশের দুইজন এএসপিসহ আরও পুলিশ সদস্য সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত। তারা জানতে পারেন, ছাত্রলীগের সুব্রত গ্রুপ বের হয়ে গেছে এবং শামীম গ্রুপ হল দখলে নিয়েছে।

শেখ মিজানুর রহমানের ভাষ্য, তারা হলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে তৎকালীন উপাচার্য আনোয়ার হোসেন তাকে পুলিশের সহায়তা ছাড়াই হলে প্রবেশ করতে বলেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তখন পুলিশ বাহিনীকে ছাড়া তারা হলে প্রবেশ করেন। হলে প্রবেশের পর ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শামীমকে হল থেকে চলে যেতে বললে তিনি ঘণ্টা দুয়েক সময় নিয়ে হল থেকে বেরিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে তারা যেসব গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন, সেগুলোর চালকদের পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা গাড়ি চালাতে জানতেন, তাদের সহযোগিতায় তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্মতিতে এই কাজটি করা হয়েছিল। এসব নির্দেশনাই তৎকালীন উপাচার্যের কাছ থেকে এসেছিল বলে জানান তিনি।

শেখ মিজানুর রহমান বলেন, পরে তিনি শুনেছেন, তারা যাওয়ার সময় বেশ কিছু ল্যাপটপ, মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি তিনি নিজ চোখে দেখেননি এবং তখন তার কাছে এ ধরনের কোনো তথ্যও ছিল না। থাকলে তিনি বাধা দিতেন বলে জানান।

তবে এ বিষয়ে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, ওই রাতে তার সঙ্গে প্রথম কথা হয় যশোরের তৎকালীন এএসপি রব্বানীর। পুলিশ তাকে হলে প্রবেশের অনুমতি দিতে বলেছিল, যাতে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু তিনি পুলিশকে একা ছাত্র হলে ঢুকতে দিতে পারেন না। তাই প্রক্টরকে তাদের সঙ্গে হলে যেতে বলেন।

তবে প্রক্টর এ বিষয়ে তাদের কোনো সহযোগিতা করেননি এবং ঘটনাস্থলে যেতে রাজি হননি বলে দাবি করেন তিনি। তাকে পুলিশ ছাড়া একা হলে যেতে বলার বিষয়টিও মিথ্যা বলে দাবি করেন উপাচার্য। তার ভাষ্য, হলের সমস্যা সমাধান করবেন হল প্রভোস্ট; সেখানে প্রক্টর একা কেন যাবেন। বরং তিনি প্রক্টরকে পুলিশ ও হল প্রভোস্টকে সঙ্গে নিয়ে হলে যেতে বলেছিলেন, তাও এএসপি রব্বানীর ফোনে।

একই ঘটনার ভিন্ন বয়ান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা

তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান হল ডাকাতি ও শিক্ষার্থীদের মালামাল লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ও হল প্রভোস্টের সঙ্গে আগেই আলোচনা করে তারা ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে হলে তাদের আবাসিক আসনও ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তারা হলে প্রবেশ করেন।

শামীমের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে পরিস্থিতির অবনতি হলে তৎকালীন উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। তার দাবি, তারা কারও কোনো মালামাল লুট বা ছিনতাই করেননি। এমনকি এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও তাঁর জানা নেই। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পক্ষপাতের কারণে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন শামীম হাসানের সঙ্গে ঘটনার দিন তার যোগাযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ঘটনার রাতে তিনি বগুড়ায় ছিলেন।

এদিকে তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে তখন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার এক বিশ্বস্ত অনুসারীর সূত্রে জানা গিয়েছিল, তৎকালীন টেন্ডারের অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় শামীম গ্রুপকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার ও ছাত্র হল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শামীম গ্রুপ হামলা চালায় বলে ওই সূত্রের দাবি।

এ ঘটনায় সহযোগিতার অর্থ আত্মসাৎ বা ভাগ-বাঁটোয়ারার অভিযোগও সামনে আসে। বিশেষ করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের অর্থ তৎকালীন সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ভাগ করে নিয়েছেন বলে কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নয় বছর পরও যে প্রশ্নগুলোর উত্তর মেলেনি

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবরের সেই ঘটনা শুধু একটি ছাত্রসংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পরিণতি ছিল না; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছিল।

একটি আবাসিক হলে কীভাবে বহিরাগতরা প্রবেশ করল? কীভাবে একাধিক মাইক্রোবাস নিয়ে হামলাকারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ল? বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হয়েছিল? ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা সবাই পেয়েছিলেন কি না? আর সেই ঘটনার বিচার ও মামলার সর্বশেষ পরিণতিই বা কী?

নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এসব প্রশ্নের অনেকগুলোর উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

বর্তমান প্রশাসন যা বলছে

হল ডাকাতির এই ঘটনা সম্পর্কে যবিপ্রবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন এবং মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করতে হবে। সবকিছু জেনে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বর্তমান প্রশাসনের এই বক্তব্য নতুন করে সেই পুরোনো ঘটনার নথিপত্র সামনে আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

নয় বছর আগে যে শিক্ষার্থীরা প্রাণভয়ে বিছানার নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যারা লোহার পাইপের আঘাতে পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন, যারা নিজেদের কক্ষ থেকে লুট হয়ে যাওয়া জিনিসপত্রের জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন তাদের কাছে ৫ অক্টোবর কেবল একটি তারিখ নয়। এটি জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।

পাঁচ অক্টোবর তাই যবিপ্রবির ইতিহাসে শুধু একটি সহিংস রাতের নাম নয়; এটি শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক আধিপত্যের নামে হামলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং দীর্ঘদিনের বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নের এক নির্মম স্মারক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮৬টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


৮৬টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি) টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করার কারণে ৮৬টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিটিইবির পরিদর্শক প্রকৌশলী বি. এম. আমিনুল ইসলামের সই করা এক তাগিদপত্রে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তালিকাভুক্ত ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বোর্ডের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদনের শর্তাবলিতে উল্লেখ রয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে পরপর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করা হবে।

এতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০-এর উপনীতি ৫.৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদানের সময় আরোপিত অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারবে।

এতে বলা হয়েছে, বিগত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করায় সংযুক্ত তালিকায় উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠির পরও বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবার তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের তালিকায় ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় দেশীয় অস্ত্র ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ৬ ডাকাতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর এলাকার ‘ইসপাইসি হোটেল’-এর বিপরীত দিক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— মো. পারভেজ (৩৬), প্রান্ত (২৮), মো. রোহান (২২), মো. ডালিম (৪৮), নাজমুল (২৮) ও মো. অন্তর (২৪)।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার রাতে সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিকদার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে নৈশকালীন টহল চলাকালে খবর আসে যে, ৯ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাতদল মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় এবং পালানোর চেষ্টা করার সময় ৬ জনকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় কৌশলে আরও ৩-৪ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশ তাদের দেহ ও ব্যবহৃত অটোরিকশা (রেজিস্ট্রেশন নং: নারায়ণগঞ্জ-থ-১১-৫৬৬৫) তল্লাশি করে একটি তালা কাটার, ২টি রামদা, ১টি ছুরি, ১টি দা, ৪টি লোহার রড, সেলাই রেঞ্জ ও প্লাস জব্দ করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে জড়ো হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এই সপ্তাহে ওটিটিতে আসছে ৭টি নতুন সিনেমা-সিরিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


এই সপ্তাহে ওটিটিতে আসছে ৭টি নতুন সিনেমা-সিরিজ

ওটিটিতে নতুন কনটেন্টের অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের জন্য এ সপ্তাহে বেশ কিছু আয়োজন রয়েছে। হরর, থ্রিলার, অ্যাকশন এবং রিয়েলিটি শো—বিভিন্ন ঘরানার সাতটি সিনেমা ও সিরিজ মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। এই তথ্যটি ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

৬ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও, অ্যাপল টিভি ও জিওহটস্টারে দেখা যাবে এসব নতুন কনটেন্ট।

‘ইনসিডিয়াস : আউট অব দ্য ফার্দার’

৬ অক্টোবর অ্যাপল টিভি ও প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাবে একটি হরর সিনেমা। সিনেমাটিতে জেমা হল নামের এক তরুণ মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যামেলিয়া ইভ। তিনি তার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য ভয়ংকর এক অতিপ্রাকৃত জগতের মুখোমুখি হতে দেখা যাবে।

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’

একই দিনে অ্যাপল টিভি ও প্রাইম ভিডিওতে আসছে ‘স্পাইডার-ম্যান : ব্র্যান্ড নিউ ডে’। টম হল্যান্ড অভিনীত পিটার পার্কার এবার একাই অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। নতুন বিপদের মুখে তার পাশে থাকবে দ্য পানিশার।

‘ক্যারি’

৭ অক্টোবর প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাবে হরর সিনেমা ‘ক্যারি’। সামার এইচ. হাওয়েল অভিনীত ক্যারি হোয়াইটের জীবন নিয়ে গড়ে উঠেছে এই গল্প। নিয়ন্ত্রণপ্রবণ মায়ের সঙ্গে তার জটিল সম্পর্কের পাশাপাশি ক্যারির ভয়ংকর ক্ষমতাও সিনেমায় তুলে ধরা হবে।

‘রিপোর্টিং লাইভ’

৯ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে হিন্দি সিনেমা ‘রিপোর্টিং লাইভ’। এতে প্যারিনীতি চোপড়াকে দেখা যাবে এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী সাংবাদিকের চরিত্রে। অবৈধ বালু উত্তোলনের চক্রের অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি নানা ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনায় জড়িয়ে পড়বেন।

‘অ্যানিম্যালস’

৯ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে আসছে ‘অ্যানিম্যালস’। বেন অ্যাফ্লেক অভিনীত সিনেমাটিতে এক মেয়র প্রার্থীর ছেলেকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা হয়। এরপর পরিবার ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার—দুই দিক সামলাতে তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এতে আরো অভিনয় করেছেন কেরি ওয়াশিংটন।

‘মান্দাদি’

তামিল সিনেমা ‘মান্দাদি’ও মুক্তি পাবে ৯ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে। এতে সুরি অভিনয় করেছেন মুথুকালি চরিত্রে। চেন্নাই থেকে নিজের এলাকায় ফিরে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌকাবাইচকে ঘিরে গল্পটি এগিয়ে যায়।

‘পতি পত্নী অউর পাঙ্গা’ সিজন ২

১০ অক্টোবর জিওহটস্টারে ফিরছে ‘পতি পত্নী অউর পাঙ্গা’র দ্বিতীয় মৌসুম। এই রিয়েলিটি শোতে তারকা দম্পতিদের সম্পর্ক, বোঝাপড়া ও দাম্পত্য জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ফলে সিনেমা ও সিরিজপ্রেমীদের জন্য সপ্তাহজুড়ে নতুন কিছু দেখার সুযোগ থাকছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভবদহে পানিবন্দী ২০০ গ্রাম, স্থায়ী সমাধানের দাবিতে পদযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


ভবদহে পানিবন্দী ২০০ গ্রাম, স্থায়ী সমাধানের দাবিতে পদযাত্রা

যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছে, যা অব্যাহত বৃষ্টির কারণে ঘটেছে। অন্তত ২০০ গ্রাম পানির নিচে রয়েছে, যার মধ্যে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত। লক্ষাধিক মানুষ তিন মাস ধরে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। ফসলি জমি, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে গেছে।

এ দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আজ ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ উপলক্ষে পদযাত্রা ও সমাবেশ আয়োজন করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। বিকেল ৩টায় অভয়নগর উপজেলা চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে আমডাঙ্গা খাল পর্যন্ত চলে। পদযাত্রায় এলাকার পাঁচ শতাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

পদযাত্রা শেষে আলমডাঙ্গা খালের পাশে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ। বক্তব্য রাখেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, উপদেষ্টা তসলিমুর রহমান, সংগঠনের সদস্য শিবপদ মন্ডল প্রমুখ।

সমাবেশে ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, "ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই কার্যকর ‘টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট’ (টিআরএম) বা জোয়ারাধার চালু করতে হবে।" তিনি আমডাঙ্গা খাল দ্রুত পুনঃখনন ও প্রশস্ত করার দাবি জানান।

এছাড়া মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদী সংস্কারে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও টিআরএম চালু না হলে সেই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী সুফল দেবে না বলে তিনি জানান।

সমাবেশে সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল বলেন, "সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবদহ পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও এক মাসেও দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।" নেতৃবৃন্দরা নদী-খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা ও কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ, ভবদহের ২১-ভেন্ট স্লুইচগেটের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং টেকা নদীর অবশিষ্ট অংশ দ্রুত খননসহ বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%