প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টোলপ্লাজার সংযোগ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে ‘ইলিশ পোলাও’ নামের ওই রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হয়েছে। আর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ও জেলা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য রয়েছে দুটি সাবস্টেশন ও মোট ৮টি ফিডার। এসব ফিডারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার ১ কিলোমিটার দূরে নাওডোবা ইউনিয়নের তস্তারকান্দি গ্রামে অবস্থিত ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টটিতে এর আগে স্থানীয় একটি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে আসছিলো। পাঁচ মাস আগে রেস্টুরেন্টটিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে লাইন নেওয়া হয়েছে। এ সংযোগ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে অন্তত ২২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, একই বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এর প্রভাব টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সরবরাহে পড়তে পারে। তারা বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ইমরান আল নাজির নামের এক ব্যক্তি বলেন, পদ্মা সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কেপিআই জোন হওয়ায় এটিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। সেখান থেকে বেশকিছু খুঁটি বসিয়ে একটি নতুন রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে। যদি সেখানে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে পদ্মা সেতুতে ইফেক্ট পড়বে এবং এটি সাফার করবে। আমাদের প্রশ্ন এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে কীভাবে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো।
আশরাফ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ এক সময় সেনাবাহিনীর সার্ভিস এরিয়ার ফিডার থেকে দেয়া হয়েছিলো। যেখানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতাম। তবে পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা হওয়ার আমাদের লাইনটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ একটি লাইন থেকে সংযোগ দিয়েছে। এবার শুনলাম পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে ইলিশ পোলাও রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। তাহলে আমাদের প্রশ্ন এটা কীভাবে দেয়া হলো। যদি ইলিশ পোলাও রেস্টুরেন্টে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে তো এই দক্ষিণ বঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিতেও সমস্যা দেখা দিবে।
এ ব্যাপারে রেস্টুরেন্ট মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, আগে অন্য একটি ফিডার থেকে আমাদের রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোড না থাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিয়ম মেনে আবেদন করা হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সংযোগ আমাদের এখানে সংযোগ দিয়েছে। এজন্য আমি সব ধরনের খরচ আমি নিজে বহন করেছি। আমি যদি সঠিক না হতাম তাহলে পল্লি বিদ্যুৎ আমাকে সংযোগ দিতো না।
শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ নয়, এই সংযোগের জন্য স্থাপন করা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোর জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, খুঁটিগুলো বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (পদ্মা সেতু) আবু সাদ নিলয় বলেন, আমাদের জায়গা ব্যবহারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এককালীন ভাড়া পরিশোধের শর্তে অনুমতি চেয়েছিল। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী তাদের জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) নাজমুল হাসান বলেন, গ্রাহকের অর্থায়নে লাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড থাকায় ওই ফিডার থেকে রেস্টুরেন্টটিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। যদি এর আশেপাশে অন্য কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চায় তাহলে টেকনিক্যাল বিষয় বিবেচনা করে দেয়ার সুযোগ থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা সংযোগ দিবো। আমরাও চাই পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকুক। জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংযোগ থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া থেকে সাধারণত পরিহার করা হয় বলেও জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন