প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বলিউডের বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার জাভেদ আখতারের জীবন শুরু হয়েছিল বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে। আজকের পরিচিতি ও সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনী। এমন একটি সময় ছিল, যখন টানা তিন দিন খাবার জোটেনি তার। জীবনযাত্রার সেই কঠিন সময়কে স্মরণ করে জন্মদিনে স্বামীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি।
আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
শাবানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাভেদের একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করে জানান, ১৯৬৪ সালের ৪ অক্টোবর, মাত্র ১৯ বছর বয়সে বোম্বে সেন্ট্রাল স্টেশনে পৌঁছেছিলেন জাভেদ। তার পকেটে ছিল মাত্র ২৭ নয়া পয়সা, কিন্তু চোখে ছিল বড় স্বপ্ন।
কিন্তু স্বপ্নের পথে চলা মোটেও সহজ ছিল না। তাকে কখনও ফুটপাতে, কখনও রেলস্টেশনে, আবার কখনও কোনো স্টুডিওর চত্বরে রাত কাটাতে হয়েছে। অর্থের অভাবে একসময় টানা তিন দিন খাবার জোটেনি। তখন তার পরনে ছিল শুধু সেই সময়ের পোশাকটুকু।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও জাভেদ হাল ছাড়েননি। শাবানা জানান, জীবনের একেবারে ভেঙে পড়ার মুহূর্তে তিনি নিজেকেই সাহস দিয়েছিলেন। তখন নিজেকে বলেছিলেন, “আমি এ ভাবে মরে যাওয়ার জন্য তো জন্মাইনি। এই দিন বদলাবে।”
জাভেদের সেই আত্মবিশ্বাস পরবর্তী সময়ে তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার হিসেবে তিনি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। পরে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
শাবানা তার লেখায় ১৯৬৪ সালের তরুণ জাভেদের সঙ্গে ২০২৬ সালের জাভেদের তুলনা করেছেন। তার বার্তা হলো, অনেক বড় যাত্রা প্রায় শূন্য থেকে শুরু হয়। হাতে হয়তো অর্থ বা সুযোগ থাকে না, কিন্তু একটি স্বপ্ন মানুষকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে।
জাভেদের জীবনের এই গল্প তুলে ধরে শাবানা লেখেন, তিনি যদি শূন্য থেকে উঠে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন, তাহলে অন্যরাও নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারেন। তার আহ্বান হলো—কঠিন সময় এলেও কখনও হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
ব্যক্তিগত জীবনেও জাভেদ আখতারকে ঘিরে নানা আলোচনা রয়েছে। শাবানাকে বিয়ের আগে চিত্রনাট্যকার হানি ইরানির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের দুই সন্তান—জোয়া আখতার ও ফারহান আখতার। পরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৮৪ সালে শাবানাকে বিয়ে করেন জাভেদ।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে রয়েছেন জাভেদ ও শাবানা। মতের অমিল থাকলেও তাদের সম্পর্কের ভিত বন্ধুত্ব—এমন কথাও বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন শাবানা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন