বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:৫৩ পি.এম
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ হেফাজত থেকে হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা এক নারী আসামি হঠাৎ গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হত্যা মামলার আসামি মিতু আক্তার কৌশলে থানা হেফাজত থেকে গায়েব হয়ে যায়।
তবে ওয়ারী বিভাগের এডিসি (ডেমরা জোন) মহসিন মাসুদ বলেছেন, রিমান্ডে থাকা হত্যা মামলার ওই নারী আসামি কৌশলে থানা থেকে পালিয়ে গেছে। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মিতু আক্তার তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতির সময় তিনি পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশ সূত্র জানায়, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে।
এদিকে, আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (লাইন ক্লোজ) করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ দেশের উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলী ও টেকনোক্র্যাটদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মেধাবীদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারলে দেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে না। বরং এতে ‘ব্রেইন ড্রেন’ আরও বাড়বে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) মিলনায়তনে ‘জাতীয় প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তারা প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। চীনের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও টেকনোক্র্যাটদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, সমাজে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন বাড়াতে হবে। নিয়মবহির্ভূত কোনো শক্তির প্রভাব যাতে মেধাতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত না করে, সেদিকে নজর দিতে হবে। আইনের শাসন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে মেধাবীদের সর্বোচ্চ কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবীদের রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে।
পাশাপাশি, গবেষণার পরিসর আরও বিস্তৃত করতে হবে। চিকিৎসা, প্রযুক্তি, পদার্থবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের চিন্তা বা দর্শনের পরিবর্তে যোগ্যতা, নিয়ম ও নিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কম্পিউটার সায়েন্স, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিপ্রাপ্তদের তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগাতে হবে। তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিসরও বাড়াতে হবে। কোন মানুষকে কোথায় সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই রাষ্ট্রের নীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, দেশের মেধাবীদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী ও বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বাংলাদেশিদেরও দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনে কাজে লাগানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘ট্যালেন্ট পুল’ ধারণার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, স্থানীয় অর্থায়ন ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে স্থানীয় প্রকৌশলীদের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
দেশে ৫০টির মতো টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর যে বিপুলসংখ্যক মেধাবী প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ বের হচ্ছেন, তাদের দক্ষতা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও বেশি করে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, টেকনিক্যাল শিক্ষায় শিক্ষিতদের উপযুক্ত কর্মসংস্থান ও তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্লোবালাইজেশন ও অফশোরিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে মেধা, জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলী ও টেকনোক্র্যাটদের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন, রংপুরে একই পরিবারের চারজন খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তের ডিএনএ ও ডোপ পরীক্ষা দেশের আইন অনুযায়ী করা হবে।
নৃশংসভাবে খুন হওয়া রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থির মৃতদেহের ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
আরপিএমপি কমিশনার আজ নগরীতে তার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
কয়েকদিন আগে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থি (২৫) এবং ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়মকে (১২) শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
শনিবার রাতে পুলিশ জনপ্রিয় এই শিক্ষকের পরিবারের চারজনের পচনশীল মৃতদেহ তাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রোববার এই চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ উপ-কমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ দল পৃথক অভিযান চালিয়ে শহর থেকে দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয় দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।
তারা চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্তে প্রকাশিত তথ্য এবং আদালতে অভিযুক্তদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে জানা গেছে, প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর কারণ ছিল শ্বাসরোধ।
এ সময় তিনি গ্রেপ্তারকৃত দুই অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ এবং অন্যান্য সাক্ষীদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি উপস্থাপন করেন।
গ্রেপ্তারকৃত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার একই বর্ণনা দিয়েছে।
তারা বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টার পর ঐ শিক্ষকের বাড়ির ছাদে পৌঁছে একটি পানির ট্যাংকের পেছনে বসে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করা শুরু করেন।
ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের সময় তারা খেয়াল করেনি কখন ভোর হয়ে গেছে।
এরপর ওই ছাদে বাড়ির মালিক গণপতি চক্রবর্তী গেলে তাকেসহ তারা সেখানেই তিনজনকে ও নীচের শয়নঘরে ছোট শিশুটিকে খুন করে।
সিদ্ধার্থের জবানবন্দি অনুযায়ী, তারা সেদিন মোট আটটি ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করেছিল।
এর আগে, তারা একদিনে একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করেছিল।
তবে, মুগ্ধর জবানবন্দিতে সেদিন নয়টি ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি আটটি এবং পরে আরও একটি ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের বিবরণ হতে পারে।
সকালে গণপতি চক্রবর্তী তাদের ছাদে হাঁটতে দেখে বকাঝকা করেন এবং বলেন, ‘এত সকালে এখানে কী করছ তোমরা?’
তখন তারা ভয় পেয়ে যান। তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। তারা ভয় পাচ্ছিলেন, গণপতি চক্রবর্তী চিৎকার করে উঠবেন। তাদের ভাষ্যমতে, এরপর তারা তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন।
সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর গলায় তোয়ালে পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টানতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের তথ্য তাদের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়।
গণপতি চক্রবর্তীর দেহ ঢেউটিন দিয়ে ঢাকার সময় তার স্ত্রী ও মেয়ে সম্ভবত একটি শব্দ শুনে ছাদে চলে আসেন।
তারা চিৎকার করতে শুরু করেন।
এরপর মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রীর গলা এবং সিদ্ধার্থ তার মেয়ের গলা চেপে ধরেন।
এক পর্যায়ে গামছা দিয়ে মেয়েটির গলা চেপে ধরা হয়। পরে কাছের একটি বাক্স থেকে দড়ি নিয়ে মেয়েটির গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টানা হয়। এভাবে মা ও মেয়েকেও হত্যা করা হয়।
এরপর, বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কিনা সেই ভয়ে তারা নিচতলায় চলে যান। সেখানে তারা একটি পুরোনো প্লায়ার্স খুঁজে পান এবং তা দিয়ে বৈদ্যুতিক তারটি কেটে দেন, যাতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে, তারা আবার ছাদে যান। তারা মা ও মেয়ের মৃতদেহ সিঁড়ির দিকে থাকা ছাদের গেটের ভেতরে রেখে দেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পাশের বাড়ির ছাদ থেকে মৃতদেহগুলো যাতে দেখা না যায়।
তারপর তারা গণপতি চক্রবর্তীর ঘরে ঢুকে দেখে, তার ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়ম জেগে উঠেছে।
শিশুটা সিদ্ধার্থকে চিনতে পেরে বলল, ‘সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন?’
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমরা আগে খবর পেয়েছিলাম , শিশুটি ঘুমিয়ে ছিল, তার ভিত্তিতেই বিষয়টি রিপোর্ট করেছিলাম। কিন্তু আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা বলেছে যে, শিশুটি জেগে ওঠে, সিদ্ধার্থকে চিনতে পারে এবং তার নাম ধরে ডাকে। শিশুটি চিৎকার করে অন্যদের খবর দিতে পারে, এই ভয়েই তারা তাকে হত্যা করেন।’
জবানবন্দি অনুযায়ী, গলায় দড়ি দিয়ে কাপড় পেঁচিয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
এরপর তারা দুজনেই খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তারা স্নান করেন এবং সঙ্গে থাকা আরেকটি ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করেন।
এরপর মুগ্ধ বাড়িটিকে চুরি বা ডাকাতির মতো দেখানোর একটি পরিকল্পনা করেন। তারা বাড়ির ড্রয়ারগুলো খুলে জিনিসপত্র এলোমেলো করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন গয়না নিয়ে নেন। সিদ্ধার্থ সেগুলো প্লাস্টিকের বাক্স ও কাপড়ের প্যাকেটে রাখেন।
তারা বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকাও নিয়ে যান।
পরদিন শুক্রবার নামাজের সময় বাইরে লোকজনের আনাগোনা কমে গেলে, তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ থেকে পাশের বাড়ির ছাদে চলে যান। তারপর তারা প্রাচীর টপকে বাইরে চলে যান।
মুগ্ধ দাসের আদালতের জবানবন্দিতেও ঘটনাটির প্রায় একই রকম বর্ণনা পাওয়া গেছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, এই ধরনের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা জরুরি।
কেউ কোনো ঘটনা শুনে বা দেখে থাকলে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে তিনি অনুরোধ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের জেঠাগ্রামের উত্তর চটিপাড়ায় বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাসিরনগর থানা পুলিশ ওই ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির পাশের ডোবায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ ভাসতে দেখতে পান তারা। বিষয়টি নাসিরনগর থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
লাশের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ জানান যে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনো সনাক্ত করা যায়নি এবং আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১২ কোটি টাকা প্রদান করবেন বিয়ন্সে।
সম্প্রতি কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ৩৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২৯ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিয়ন্সে নোলস, বিশ্বখ্যাত আমেরিকান সংগীত তারকা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য বিশাল অর্থ সহায়তার ঘোষণা করেছেন।
চোকো অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও আবাসন সংক্রান্ত জরুরি সামগ্রী সরবরাহের উদ্দেশ্যে বিয়ন্সে ১০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকা) অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, কলম্বিয়ার এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর পুনর্নির্মাণের জন্য ১২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শাকাতুড়ি সংগীতশিল্পী শাকিরা।শাকিরা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দুর্যোগের পর শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে এবং মানসিক স্থিতিশীলতা অর্জনে স্কুলের ভূমিকা অপরিসীম। চোকো কিংবা কলম্বিয়া—কেউ একা নয়, আমরা আমাদের সহায়তা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’
এই দুই তারকা সংকট মোকাবিলায় অন্যান্য বিত্তবান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ