প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর পর মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে খুঁজে পেয়েছে তার পরিবার।ফাতেমার মা ফজিলা বেগম (৪৭) সাড়ে তিন বছর নিখোঁজ থাকার পর পরিবারের কাছ ফিরলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন, ফজিলা বেগমকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন, ভাই হারেজ আলী ও অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফজিলা বেগমের পরিবার জানায়, মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে প্রকাশিত ছবি দেখে ফজিলা বেগমকে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা। পরে পরিবারের ৬ সদস্য বুধবার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রাম থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হন এবং বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে পৌঁছান।
ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আমার মেয়ে ফজিলা তার ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। তখন ফাতেমার বয়স ছিল তিন থেকে চার বছর এবং ফাতেমা পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ছিল সবচেয়ে ছোট। বর্তমানে দুই ভাই ও দুই বোন জীবিত আছে। তাদের বাবা মমরুজ আলী রিকশা চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত, তবে ফাতেমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে।
ফজিলা বেগমের ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, তিন বছরের বেশি সময় আগে আমার বোন হারিয়ে গিয়েছিল। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত, তবে ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর কথা মনে হলে খুব খারাপ লাগে।
মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম স্পষ্টভাবে কিছু বলতে না পারলেও বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করেন, ‘আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।’
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ফজিলা বেগমের পরিবারের সদস্যরা সকালে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা, বাগেরহাট সদর মডেল থানার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফজিলার মা হাজরা খাতুন বলেন, ‘২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের কোনো এক সময় ঝড় হয়। এরপরে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি তাকে। আমার মেয়েকে পেয়ে এখন অনেক ভালো লাগতেছে। আমার নাতিসহ সন্ধান পেলে আরও ভালো লাগতো।’
এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিঘির পূর্বপাশের ঘাটে গোসল করতে নামলে সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমাকে আক্রমণ করে কুমির। এরপর দিঘিতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন