ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইবির তিন শিক্ষার্থী আইন ও বিচার বিভাগে ইন্টার্নশিপ পেলেন


ইবির তিন শিক্ষার্থী আইন ও বিচার বিভাগে ইন্টার্নশিপ পেলেন

আইন ও বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে ১৪ জনকে ইন্টার্ন হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় তাদের তিন মাস মেয়াদে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ প্রদান করেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে তিন শিক্ষার্থী এই সুযোগ লাভ করেছেন।

আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৮ থেকে ‘ইন্টার্নশিপ নীতিমালা, ২০২০’-এর আওতায় একটি অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আদেশটি ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনীত তিন শিক্ষার্থী হলেন, ল' এন্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল কাফি, আইন বিভাগের ১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী উম্মে খুলছুম বিপাশা এবং আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের ১৮-১৯ বর্ষের মো. রাকিব হাসান।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, আজ অফিস খোলা

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মনোনীত ইন্টার্নদের তাদের নির্ধারিত কর্ম-এলাকার সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ/প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

ইন্টার্নশিপ শুরুর পূর্বে মনোনীতদের আইন ও বিচার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এছাড়া যোগদানের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, অভিভাবকের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ইন্টার্নশিপের মেয়াদ তিন মাস হবে। ইন্টার্নশিপ শুরু হবে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এবং শেষ হবে ১৭ জানুয়ারি ২০২৭। প্রতি মাসে ইন্টার্নদের ১০ হাজার টাকা হারে ইন্টার্নশিপ ভাতা প্রদান করা হবে। ভাতা ছাড়া অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা প্রদান করা হবে না।

এছাড়া ‘ইন্টার্নশিপ নীতিমালা, ২০২০’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ইন্টার্নদের নির্ধারিত ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে দাখিল করতে হবে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সনদ বা এনওসি দাখিলের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: জবিতে এবার খেলাফত ছাত্র মজলিসের গরুভোজের ঘোষণা, থাকছে কাওয়ালি

অফিস আদেশে মোট ১৪ জন মনোনীত ইন্টার্নের নাম, পিতার নাম, নিজ জেলা এবং কর্ম-এলাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দেশের বিভিন্ন জেলা ও সংশ্লিষ্ট আইন ও বিচার-সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ইন্টার্নশিপের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে।

ইবি শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, "আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে ইন্টার্ন হিসেবে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত। এখানে সরাসরি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি সরকারি আইনি ব্যবস্থাপনা কাছ থেকে শেখার এক দারুণ সুযোগ পাবো। আমাদের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে দেওয়ানী ও ফৌজদারি মামলা দায়ের থেকে নিষ্পত্তি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়সহ আদালতের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জনপ্রতিনিধিদের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


‘জনপ্রতিনিধিদের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে’

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে এলাকার সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদান করে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নাগরিকরা যদি ভুলত্রুটি তুলে ধরতে ব্যর্থ হন তবে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের অর্থ। সুতরাং উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও যদি অনিয়ম ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।

সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। যদি কোনো সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

আইনমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং অনিয়মের সুযোগ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হেনস্তা করার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও কোনো অবস্থান নেওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।

শৈলকূপার উন্নয়ন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। দিগনগর ইউনিয়নেও বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়ক তালিকাভুক্তির আওতায় এসেছে। এসব সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপার উন্নয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার কৃতী সন্তান ও পেশাজীবীরা উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন।

তিনি মত দেন, দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার এবং জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। গঠনমূলক সমালোচনা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহির চর্চা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য দেন। এসময় শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় সাঁথিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, উপভোগ করলেন লক্ষাধিক মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


পাবনায় সাঁথিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, উপভোগ করলেন লক্ষাধিক মানুষ

পাবনার সাঁথিয়ায় প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। লক্ষাধিক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে পৌরসভাধীন আফতাবনগর-ছেচানিয়া সেতুসংলগ্ন ইছামতী নদীতে এ বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নদীর তীরজুড়ে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শকেরা নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে উৎসবে অংশ নেন এবং নৌকাবাইচের অনবদ্য আনন্দ উপভোগ করেন। শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ—সবাই যেন ফিরে যান শিকড়ের সেই আনন্দঘন গ্রামীণ উৎসবে।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী (যুব ও কর্মসংস্থান) সাইয়েদ আবদুল্লাহ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আল হাসান আসিফ, সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালাউদ্দিন খান পিপিএম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিকসহ অনেকে।

এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় ১১টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ‘এরশাদ ফাইটার্স’ প্রথম স্থান অধিকার করে পুরস্কার অর্জন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার পরও কি জাগবে প্রশাসন? বরিশালে প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ পি.এম


সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার পরও কি জাগবে প্রশাসন? বরিশালে প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দোকানে ঢুকে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা আবারও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বরিশালে নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম। তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার পরও মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। বরং অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

সাংবাদিক আসলামের প্রশ্ন, একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও যদি তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে বিপদের মুহূর্তে তিনি কার কাছে যাবেন? তাঁর আশঙ্কা, তাঁর মৃত্যুর পরই কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের টনক নড়বে?


সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির নেতৃত্বে মোটরসাইকেলে মহড়া ও প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সংঘটিত ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তালাশ বিডি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক আসলাম। তাঁর দাবি, অপরাধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করাই ছিল তাঁর পেশাগত দায়িত্ব। তবে এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খেলার মাঠসংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মাথায় অস্ত্র তাক করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করতেও তাঁকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন বলে জানান সাংবাদিক আসলাম। তাঁর দাবি, মামলার কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা ‘নাককাটা রুবেল’ এখনো গ্রেপ্তার হননি।

৭ অক্টোবর ফের হত্যার হুমকি, মামলা প্রত্যাহারে চাপের অভিযোগ

সাংবাদিক আসলামের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তাঁদের মধ্যে মামলার ৬ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখিত আসলাম গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী আসলাম গত ৭ অক্টোবর তাঁকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেন।

আসলামের ভাষ্য, মামলার ৬ নম্বর আসামি আসলাম ওরপে মেলা আসলাম। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাঁকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ছোট সন্তান স্কুলে পড়ে—এ বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেন তিনি মামলা তুলে নেন, সে উদ্দেশ্যেই এ চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিতে নিজের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও চরম উদ্বেগে রয়েছেন বলে জানান সাংবাদিক আসলাম।

‘আসামির লোকেশন খুঁজে দেওয়া কি সাংবাদিকের দায়িত্ব?’

মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া এবং নতুন করে হত্যার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান সাংবাদিক আসলাম। তাঁর দাবি, একাধিকবার বিষয়টি জানিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম তাঁকে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করছে। আপনি আসামির বর্তমান লোকেশন (অবস্থান) দিন, আমরা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করব।”

অন্যদিকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি মডেল থানা) অলক কান্তি শর্মা বলেন, “পুরো ব্যাপারটা আমি দেখছি।”

তবে আসলামের অভিযোগ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া এবং নতুন করে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি জানানোর পরও তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম বলেন, “আমি একজন সাংবাদিক। আমি সংবাদ সংগ্রহ করি, অপরাধের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরি এবং জনগণের সামনে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করি। কিন্তু একজন অভিযুক্ত কোথায় অবস্থান করছেন, তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করা আমার দায়িত্ব নয়। আমি যদি নিজেই আসামির লোকেশন খুঁজে বের করে দিতে পারি, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতার ভূমিকা কী?”

তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করতে তদন্তে সময় লাগতে পারে। কিন্তু সে কারণে হত্যার হুমকির অভিযোগে আক্রান্ত একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তদন্তে ছয় আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা, তবু অধরা প্রধান আসামি নাকা রুবেল।

সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম জানান, এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তাঁর দাবি, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ছয়জন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন এবং এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করেছেন।

তবে মামলার এক নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’ এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক আসলাম।

তাঁর দাবি, একসময় র‍্যাবের ক্রসফায়ারের তালিকায় নাম থাকা এই ব্যক্তির কাছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত সম্পর্কেও প্রশাসন অবগত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন।

মাছুদুর রহমান আসলামের প্রশ্ন, মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনের বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা না গেলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে হত্যার হুমকির মুখে থাকা একজন সাংবাদিক, কীভাবে নিরাপদ বোধ করবেন? অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। সেখানে একজন সাংবাদিককেই যদি আসামির অবস্থান খুঁজে দিতে হয়, তাহলে পুলিশের তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভূমিকা কী?

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক আসলাম বলেন, “একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে জনসমক্ষে তুলে ধরা। আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করানো আমার দায়িত্ব নয়। পুলিশ যদি একজন সাংবাদিকের কাছেই আসামির লোকেশন চায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজটা কী? একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ থাকার পরও যদি তাঁকে নিরাপত্তা দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর লাশের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা আর শোক প্রকাশ করা ছাড়া প্রশাসনের আর কী করার থাকবে?”

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই না, আমার মৃত্যুর পর প্রশাসন তৎপর হোক। আমি বেঁচে থাকতে আমার অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করা হোক, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং আমার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে তাঁকে জীবিত অবস্থায় নিরাপত্তা দেওয়াই রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।”

আমার মৃত্যুর পরই কি জাগবে প্রশাসন?’

নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান সাংবাদিক আসলাম। তাঁর আশঙ্কা, হত্যার হুমকির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারেন তিনি।

নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে আসলাম বলেন, “আমি যদি কোনো দিন হত্যার শিকার হই, তখন কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘুম ভাঙবে? আমার মৃত্যুর পর কি আমার অভিযোগ, আমার মামলা এবং আমার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে? একজন সাংবাদিককে বাঁচিয়ে রাখতে যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর বিচার চাওয়ার অপেক্ষা কেন?”

তিনি আরও বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পেয়ে সত্য প্রকাশের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই না। আমি রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের জন্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং অপরাধের তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকতা করি। কিন্তু আমার একটি ছোট সন্তান রয়েছে। সে স্কুলে পড়ে। আমার কিছু হয়ে গেলে তার ভবিষ্যৎ কী হবে? তাকে কে দেখবে, কীভাবে বড় হবে? একজন বাবা হিসেবে এই প্রশ্ন আমাকে প্রতিনিয়ত ভাবায়।”

আসলামের বক্তব্য, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকলেও সন্তানের ভবিষ্যৎ তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলছে। একজন বাবা হিসেবে তিনি চান, তাঁর সন্তান নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠুক এবং তাঁকে বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে না হোক।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?

সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁরা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি হত্যার হুমকি, হামলা কিংবা মামলা প্রত্যাহারের চাপের মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

সাংবাদিক আসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি। তাঁর দায়ের করা মামলার তদন্ত কত দূর এগিয়েছে? ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের পর মামলার পরবর্তী অগ্রগতি কী? প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? গত ৭ অক্টোবর নতুন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে কি না? তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না?

এসব প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

আমার কলম থামানোর আগে সত্য যাচাই করুন’

সাংবাদিক আসলামের বক্তব্য, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা কাউকে হয়রানি করা তাঁর সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য নয়। অপরাধের তথ্য সংগ্রহ, প্রমাণ যাচাই এবং জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করাই তাঁর কাজ। কোনো প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং আইনসম্মতভাবে প্রতিকার চাওয়ার পথও খোলা রয়েছে। কিন্তু হত্যার হুমকি কিংবা জোর করে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আশ্বাস বা আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ এবং বাস্তব নিরাপত্তাব্যবস্থা।

নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, হুমকির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সম্ভাব্য বিপদ প্রতিরোধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া কতটা জরুরি। কোনো সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার চেয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে আগেই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চান আসলাম

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সাংবাদিক আসলাম জানিয়েছেন, সত্য প্রকাশের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যেতে চান না তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করবে এবং তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি চান না, তাঁর সন্তানকে কখনো বাবার হত্যার বিচার চাইতে রাজপথে দাঁড়াতে হোক কিংবা বাবার অনুপস্থিতিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হোক।

একজন সাংবাদিকের কলম যদি অপরাধের তথ্য তুলে ধরার কারণে ভয়ের মুখে থেমে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু ওই সাংবাদিক নন; ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষের জানার অধিকারও। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ নয়; এটি আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ রক্ষার অপরিহার্য অংশ।

সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের প্রশ্নটি তাই শুধু তাঁর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নয়; এটি দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়েও।

তাঁর আকুতি, “আমার মৃত্যু হলে তখন হয়তো আমার কথা সবাই শুনবেন। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে, আমার সন্তান বাবাকে কাছে পেতে এবং আমি নিরাপদে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতে—সেই নিশ্চয়তা কি এখনই দেওয়া যায় না?”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৮ এম


শেরপুরে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে,

শেরপুরে কেক কাটার মাধ্যমে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার চতুর্থ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০ টায় শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও কেক কাঁটার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানের দৈনিক কালবেলার শেরপুর প্রতিনিধি জাহিদুল খান সৌরভ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি। আমরা আশা করছি, পত্রিকাটি একসময় বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ে চলে যাবে। বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের অপব্যাখ্যামূলক ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে কালবেলা এসবের বাইরে গিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করছে। আশা করি সংবাদ মাধ্যমে এই গণমাধ্যমটি শীর্ষ স্থান ধরে রাখবে।

কেক কাটা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, নির্বাহী সদস্য হোসাইন আহম্মেদ মোল্লা, নির্বাহী সদস্য কাজী মাসুম, জেলা বিএনপির সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমদ ময়না, সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মানিক, দৈনিক আলোচিত জামালপুরের শেরপুর প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম রতন, দৈনিক মুক্ত খবরের শেরপুর প্রতিনিধি রাজাদুল ইসলাম বাবু, ওসমান গনি, আর টিভির শেরপুর প্রতিনিধি ফজলুর রহমান, নিউজ ২১ এর শেরপুর প্রতিনিধি শান্ত রায়।

অনুষ্ঠানে অন্যানোদের মধ্যে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক দিনকালে প্রতিনিধি আবু হানিফ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ইনডিপেনডেন্ট টিভির জেলা প্রতিনিধি মেরাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার জেলা উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%