প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উগান্ডার তোরো রাজ্যের নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা। বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী কিজানাঙ্গোমা রাজা এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা ন্যাবোঙ্গো প্রথম হিসেবে পরিচিত।
বিবিসি জানাচ্ছে, তোরোর নতুন রাজা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে তিনি রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং সাংবাদিক ও উপস্থাপক হিসেবে অধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে উগান্ডার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে কাজ করেছেন। তবে তার রাজা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। গত মাসে ক্যান্সারে মারা যান তোরোর আগের রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি চতুর্থ, যিনি মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৫ সালে, মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে বসেছিলেন।
প্রথা অনুযায়ী, প্রয়াত রাজার স্বীকৃত ছেলে থাকলে সাধারণত তাকেই পরবর্তী রাজা হিসেবে মনোনীত করা হয়ে থাকে। রাজপরিবারের সদস্যদের দাবি, ওয়ো একটি উইল রেখে গেছেন, যেখানে তার ছেলেকে পরবর্তী রাজা করার নির্দেশ ছিল। তবে সেই ছেলেকে কখনোই প্রকাশ্যে আনা হয়নি। রাজা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বাবিতো বংশের ২১ সদস্যের কমিটি তাকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরে কমিটি কিজানাঙ্গোমাকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করে। প্রয়াত রাজা ওয়ের মা রানি বেস্ট কেমিগিসা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ছেলের উইলকে সম্মান জানানো উচিত ছিল। তবে রাজা নির্বাচনের কমিটির বক্তব্য, কিজানাঙ্গোমাকে তোরোর রীতি ও ঐতিহ্য অনুসারে নির্বাচিত করা হয়েছে। কিজানাঙ্গোমা এবং প্রয়াত রাজা ওয়ো চাচাতো ভাই। উভয়েই তোরোর ১১তম রাজা জর্জ ডেভিড ম্যাথিউ কামুরাসি রুকিডি তৃতীয়ের নাতি।
রাজ্যাভিষেকের দিন তোরোতে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কিজানাঙ্গোমা প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে সরকারি কারুজিকা রাজপ্রাসাদে পৌঁছান। সেখানেই তার রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হয়। রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিজানাঙ্গোমা ঐক্য ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "একা কাজ করা সম্ভব নয়; জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমাকে কাজ করতে হবে।" তোরোর তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী চার্লস মওয়াঙ্গুহিয়া বলেন, কিজানাঙ্গোমাকে রাজা হিসেবে নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও তার রাজ্যাভিষেককে সমর্থন জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি।
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজাদের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তবে তারা নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাব বজায় রাখেন। ১৯৬৭ সালে উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির সরকার রাজ্যগুলো পুনর্বহাল করে। বর্তমানে দেশটিতে চারটি প্রধান ঐতিহাসিক রাজ্য বিদ্যমান। তোরো এর একটি। কিজানাঙ্গোমার জন্ম ১৯৭০ সালে। তিনি ফোর্ট পোর্টালের কিডুকুরু গ্রামে বড় হয়েছেন। ১৯৯৯ সালে মাকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি সম্প্রচারমাধ্যমে কাজ শুরু করেন। উগান্ডা ও প্রতিবেশী রুয়ান্ডায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা ও সম্প্রচার পেশায় যুক্ত ছিলেন। রাজা হওয়ার পর কিজানাঙ্গোমা বলেছেন, সাংবাদিকতা জীবনে গড়ে তোলা যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা তিনি তোরোর মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন