প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে, তখন নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি জানান, নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিএনপি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবীর রিজভী উল্লেখ করেন, নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধুমাত্র পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রও এর সুফল লাভ করে। নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি পরিবারকে যেমন উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখা যায়।
তিনি বলেন, বিএনপি নারীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের জন্য স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রিজভী আরও বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির জন্য শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষাকে অবহেলা করা হলে কোনো জাতি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না। অথচ গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, একসময় শিক্ষার গুরুত্বকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পুরো জাতির ওপর পড়েছে।
রিজভী অভিযোগ করেন, অনেক সময় প্রশ্নপত্রে শুধু প্রশ্ন লেখা হয়েছে। শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি ক্ষমতাশালী জায়গা থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলার ফলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। ‘আমাদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কোনো জাতি শিক্ষার যথাযথ সুযোগ ও প্রণোদনা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য বিনিয়োগ ও প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন