প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সায়োটো নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। এর কয়েক মিনিট আগে, নদীতে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দলের একটি ছবি তুলেছিলেন এক নৌযাত্রী। পরবর্তীতে জানা যায়, সেটিই সম্ভবত তাদের জীবনের শেষ ছবি হয়ে গেছে। এই দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
মৃতদের মধ্যে দুটি দম্পতি রয়েছেন, যারা চারজনই মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসের নাগরিক। এর ফলে এক দম্পতির ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই শিশু সম্পূর্ণ এতিম হয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের আর কোনো জীবিত আত্মীয় নেই।
রোববার (১৯ জুলাই) ওহাইওর পাউয়েল এলাকার সায়োটো নদীতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুই শিশু নদীর তীরে সময় কাটাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একজন পানিতে নেমে বিপদে পড়লে তাকে বাঁচাতে অন্যরা একে একে নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচজনই তলিয়ে যান। উদ্ধারকারীরা সেই দিন দুটি নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেন। পরদিন আরও তিন পুরুষের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার রাতে আনুমানিক ৯টার দিকে, সড়কের ধারে গায়ে কেবল তোয়ালে পেঁচানো এক ভীতিসন্ত্রস্ত শিশুকে দৌড়াতে দেখে এক গাড়িচালক ৯১১-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। শিশুটি পুলিশকে জানায় তার পরিবার নদীতে ডুবে গেছে। উদ্ধারকারীরা নদী থেকে দুটি নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে সোমবার (২০ জুলাই) বাকি তিন পুরুষের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, ঘটনার দিন নদীটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৩৫০ ঘনফুট হারে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
দুর্ঘটনার আগে স্থানীয় ব্যাপ্টিস্ট পাদ্রি ও নিয়মিত নৌচালক মার্কাস এল. মার্টিন নদীপথে যাওয়ার সময় দলটিকে কোমরসমান পানিতে মাছ ধরতে দেখেন। নদীর ওই অংশটি হঠাৎ গভীর হয়ে যাওয়া ও তলদেশের ঢাল থাকার কারণে বিপজ্জনক বলে তিনি জানতেন। ফেরার পথে তাদের একই জায়গায় দেখে তিনি একটি ছবি তুলে রাখেন। পরে দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরে তার ধারণা হয়, সেটিই হয়তো তাদের জীবিত অবস্থার শেষ ছবি।
মার্টিন জানান, তিনি একসময় তাদের সতর্ক করার ভাবনা করেছিলেন। তবে মাঝখানে একাধিক নৌযান থাকায় ঢেউ তৈরি হওয়ার আতঙ্কে আর এগিয়ে যাননি। পরে ঘটনাটি জানার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভীষণ ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন বলেও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান।
ডেলাওয়্যার কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে একজনকে উদ্ধার করতে গিয়েই ধারাবাহিকভাবে অন্যরাও বিপদে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত সবাই ডুবে যান। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
হন্ডুরাস সরকার নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে চারজন দেশটির নাগরিক। তাদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া দুজন হলেন ৩৩ বছর বয়সী হোসে মারিও পিনেদা দিয়াস এবং তার ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী মারিনা সুয়াপা রেগালাদো। বাকি নিহতদের পরিচয় পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো শেষে প্রকাশ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় এক দম্পতির ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই সন্তান এতিম হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা ওহাইওর শিশু সেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। হন্ডুরাস সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন