প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রুশ সেনারা সামনের দিকে শত্রু খুঁজছিলেন। কিন্তু এখন তাদের জন্য নতুন একটি সমস্যা আসছে পেছন থেকে। কারণ আকাশে রয়েছে একটি ড্রোন, যা নিজেরাই লক্ষ্য চিনে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। আর মুহূর্তের মধ্যে এই ড্রোন ধ্বংস্ নিয়ে আসে। এই এআই ড্রোনই এখন একের পর এক রুশ রসদবাহী কনভয় ধ্বংসের মাধ্যমে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ যেমন বিবিসি ও আনাদোলু এজেন্সি বলছে, ইউক্রেন এআই-চালিত ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়াকে চাপের মধ্যে ফেলতে চেষ্টা করছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্বের মাসে ক্রিমিয়া এবং দক্ষিণ ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কমপক্ষে ১৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন এখন শুধুমাত্র সামনের যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং রাশিয়ার পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। নতুন এআই-চালিত ড্রোন ব্যবহার করে খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ বহনকারী ট্রাকগুলো খুঁজে বের করে ধ্বংস করছে দেশটি। শুধুমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অন্তত ১৫০টি যানবাহন ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি একাধিক সংবাদ মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এটি ইউক্রেনের ভাষায় ‘লজিস্টিকস লকডাউন’ কৌশল। অর্থাৎ সরাসরি সেনাদের উপর হামলা নয়, বরং খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ পৌঁছানোর পথ বন্ধ করতে হবে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, এই কৌশলের লক্ষ্য হলো রুশ বাহিনীর ওপর চাপ বৃদ্ধি করা এবং তাদের ধারাবাহিক আক্রমণের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
এই অভিযানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নতুন ‘হর্নেট’ এআই ড্রোন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত চার বছরে সংগ্রহকৃত হাজার হাজার ঘণ্টার রুশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ভিডিওর মাধ্যমে এই ড্রোনগুলো প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। ফলে এগুলো এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারছে। স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সুবিধা গ্রহণে রুশ বাহিনীর ইলেকট্রনিক জ্যামিংও ড্রোনগুলোকে অক্ষম করতে পারছে না সহজেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ফলে এখন সম্মুখসমর থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকা রুশ রসদবাহী যানবাহনও নিরাপদ নয়। এবং এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া কিছু এলাকায় কনভয়ের আকার ছোট করতে বাধ্য হয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনে ভারী সামরিক সরঞ্জামের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রোনের নজর এড়াতে রুশ বাহিনী কাঁচা রাস্তা এবং মাঠ ব্যবহার করছে।
এই অবস্থায় যুদ্ধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর ইউক্রেনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই সুবিধা স্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির লড়াই কখনও থেমে থাকে না। ইউক্রেন যেমন নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, রাশিয়ার পক্ষ থেকেও যেকোনো মুহূর্তে পাল্টা চাল দেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত এই আকাশে উড়তে থাকা বুদ্ধিমান ড্রোনগুলো রাশিয়ার জন্য নতুন এক দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন