প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুয়েত, জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর আগে, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের হরমুজ প্রণালির ভূখণ্ডে হামলা করা হয়। কিছু ঘণ্টা পর তেহরান পালটা হামলা শুরু করে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতের সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোনের উপস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা বলেছে, যদি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, তাহলে সেটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করার শব্দ হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্য করে একটি ‘ভারি’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই হামলায় বেশ কিছু ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। কারিগরি অবকাঠামোর কিছু অংশে আগুন ধরে যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এর আগে, জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’–এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ক্যাম্পটির বেশ কয়েকটি স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত ও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা মাঝপথে ধ্বংস করা হয়।
অপরদিকে, বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং মার্কিন সেনাদের জড়ো হওয়া স্থানগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে।
ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের ওপরও হামলা চালানোর খবর দিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড।
এর আগে, মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে বেশ কিছু এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাই মাসের পর রোববার রাতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার জবাবে ইরান যদি পালটা আঘাত হানে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন