প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরে একটি সম্পূর্ণ রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ‘ডিজে পার্টি’ আয়োজনের আড়ালে মাদক সেবন ও রাতভর মাদক কেনাবেচার সংবাদ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সদস্যরা। শুক্রবার রাতে গাজীপুরের পূবাইল এলাকার ‘পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবে’ এ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘সনিক প্লাস’ নামের ব্যানারে আয়োজিত ডিজে পার্টিতে ৬০০ জনের উপস্থিতি থাকার কথা ছিল। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী ছিল।
মাদকদ্রব্য সরবরাহের তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও এসআরবির সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের ফলস্বরূপ অনুষ্ঠান আয়োজনে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে কোকেন, কুশ মাদক এবং বিভিন্ন নেশাজাতীয় বড়ি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (২৯), তুষার আহমেদ (৩২), মহিদুল ইসলাম (২৮) ও কাসফিয়া নিশাত (২৫)। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এই চারজন ডিজে পার্টির আয়োজক ছিলেন এবং তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের মাদক সরবরাহ করেন। পরবর্তীতে শনিবার তাদের বিরুদ্ধে জিএমপি পূবাইল থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, সম্প্রতি ডিজে পার্টি ও অন্যান্য বিনোদনমূলক আয়োজনকে মাদক সরবরাহ ও সেবনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের আয়োজনে একাধিক অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সিনথেটিক মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে বিনোদনমূলক পার্টি, ডিজে ইভেন্ট ও ব্যক্তিগত আয়োজনকে মাদক সরবরাহ ও সেবনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব আয়োজনের প্রচার, অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাদক সরবরাহের সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
গাজীপুরের ভাওয়াল রিসোর্টে গত এপ্রিল মাসে অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি অবৈধ মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছিল। গাজীপুর সদর উপজেলার নলজানি এলাকায় ওই রিসোর্টে একটি ডিজে পার্টি চলাকালীন জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে।
রাতভর অভিযানে ৯টি এক্সটেসি, ৫ গ্রাম কুশ, ১৬৫ গ্রাম ক্যানাবিস চকলেট, ১০১টি বিয়ার ও ৩ বোতল ভদকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম, ফয়জুল ইসলাম খান, ইফতিয়ার কাসেম, জিহাদ আহম্মেদ, রেদোয়ান হাসান চৌধুরী ও আবির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, ডিজে পার্টিতে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সরবরাহ করা হয়েছিল। জাহিদুল আলম ওই আয়োজনের জন্য রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে কিশোর-কিশোরীদের কাছে টিকিট বিক্রি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপনীয় গ্রুপ খুলে যারা বিভিন্ন সময় এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের যুক্ত করা হয়। এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিটের দাম নেওয়া হয়।
কর্মকর্তারা আরও জানান, অনুষ্ঠান শুরুর পর আয়োজকদের নির্ধারিত মাদক সরবরাহকারীরা ভেতরে ঘুরে ঘুরে অংশগ্রহণকারীদের কাছে নানা ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করেন। সেখানে মাদক সেবনের সব ধরনের আয়োজন থাকে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঢাকা, গাজীপুর ও কক্সবাজারের বড় বড় রিসোর্টে প্রতি মাসেই এ ধরনের ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। একাধিক গ্রুপ এ আয়োজনের সঙ্গে জড়িত। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক বিক্রির এ ধরনের আয়োজনের জন্য রিসোর্ট ভাড়া না দিতে গাজীপুরের রিসোর্টগুলোকে সর্তক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, এ ধরনের আয়োজনের তথ্য পেয়ে গাজীপুরের সব রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সর্তক করা হয়েছে যাতে এ ধরনের আয়োজনের জন্য তারা রিসোর্ট ভাড়া না দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, যারা এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন