প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালী সরকারি কলেজের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত প্রসপেক্টাসে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া ভর্তি-সংশ্লিষ্ট প্রকাশনায় রাজনৈতিক বক্তব্য থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কলেজের প্রসপেক্টাসে ‘প্রতিষ্ঠা ও নামকরণ’ শিরোনামের লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, কাউখালী মহাবিদ্যালয় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে কলেজ প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন সংসদ সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর ভূমিকার পাশাপাশি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসপেক্টাসের ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শপথবাক্য’ অংশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই অংশে শিক্ষার্থীদের দেশ, দেশের মানুষ ও জাতীয় কল্যাণে কাজ করার শপথের কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে ভর্তি প্রসপেক্টাসে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শেখ হাসিনা পরিবারের প্রশংসাসূচক বক্তব্য থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। তাদের বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি সহায়িকা বা প্রসপেক্টাসে শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, নিয়মনীতি ও প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সরকারের প্রশংসামূলক বক্তব্য নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে।
তাদের আরও অভিযোগ, এ ধরনের লেখা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত হোসেন তালুকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দলীয় রাজনৈতিক প্রচারের বাইরে রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরপেক্ষ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কলেজ কর্তৃপক্ষের ভর্তি সহায়িকা বইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসামূলক বক্তব্য কীভাবে স্থান পেল, তা তদন্ত করে দেখা দরকার। বর্তমান শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা কিংবা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে এসব লেখা যুক্ত করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে টানটান উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, এই লেখার পূর্বে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরোনো বই অনুসরণ করতে গিয়ে এসব লেখা নতুন ভর্তি সহায়িকা বইয়ে ছাপানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কাউখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, “ভর্তি সহায়িকা বই প্রকাশের জন্য ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মনিরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে বই ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পুরোনো বই অনুসরণ করতে গিয়ে এসব লেখা ছাপানো হয়েছে। আজ ৫০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে বই বিতরণ করার পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বই বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বই প্রকাশের দায়িত্বে থাকা মনিরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ ব্যাপারে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানান, “এডিসি শিক্ষা কে আহ্বায়ক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাখিল করবেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন